সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যারিজোনাকে বিদায় জানালেন কাইলার মারে
শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদটাই চূড়ান্ত হলো। দীর্ঘ সাত বছরের আবেগ আর টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অ্যারিজোনা কার্ডিনালসের হয়ে নিজের পথচলার ইতি টানলেন তারকা কোয়ার্টারব্যাক কাইলার মারে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিদায়ী বার্তায় মারে নিজেই এই ঘোষণা দেন। তিনি লিখেছেন, “এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ৭৭ বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমি দুঃখিত।”
তবে বিষয়টি হুট করে ঘটেনি। গত কয়েক মাস ধরেই মারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এনএফএল পাড়ায় গুঞ্জন ডালপালা মেলছিল। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই মারেকে রিলিজ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কার্ডিনালস কর্তৃপক্ষ। নতুন কোচ মাইক লাফ্লুরের আগমনের পর মারের বিদায় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
এদিকে মারের এই প্রস্থান কার্ডিনালসের জন্য এক বিশাল আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মারেকে ছেড়ে দেওয়ার ফলে ২০২৬ সালে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলারের ‘ক্যাপ হিট’ হজম করতে হবে ক্লাবকে। তবে এর বিনিময়ে ২০২৭ সালের গ্যারান্টিযুক্ত বড় অংকের খরচ থেকে বেঁচে যাচ্ছে তারা।
২০১৯ সালে এনএফএল-এর ‘অফেন্সিভ রুকি অব দ্য ইয়ার’ হয়ে মারের যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজকীয়ভাবে। সাত মৌসুমে ৮৭টি ম্যাচ খেলে ২০ হাজার ৪৬০ গজি পাসিং ইয়ার্ডের মালিক তিনি। অ্যারিজোনার ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে কি আর সব হয়? ভক্তদের আক্ষেপ শুধু ওই সাফল্যহীনতায়।
২০২১ সালে মারের হাত ধরেই কার্ডিনালস দারুণ এক শুরু পেয়েছিল, জিতেছিল টানা সাত ম্যাচ। কিন্তু ২০২২ সালে হাঁটুর লিগামেন্ট (ACL) ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকেই মারের ক্যারিয়ারের গ্রাফ নিচের দিকে নামতে শুরু করে। এরপর একের পর এক ইনজুরি আর মাঠের বাইরের বিতর্ক তাকে ছায়া হয়ে তাড়া করেছে।
চলতি মৌসুমেও চোটের কারণে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি। বিশেষ করে টেনেসি টাইটানসের বিপক্ষে হারের পর থেকে মারের মাঠে নামা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কোচ জোনাথন গ্যানন যখন তাকে ইনজুরড রিজার্ভ তালিকায় রেখে দেন, তখনই বোঝা গিয়েছিল মারের জন্য অ্যারিজোনার দরজা বন্ধ হয়ে আসছে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে মারের আত্মবিশ্বাস এখনো তুঙ্গে। বিদায়ী বার্তায় তিনি যোগ করেন, “আমি প্রতিকূলতাকে ভয় পাই না। আমার সেরা খেলাটা এখনো বাকি এবং আমি তা প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছি।”
মারেকে দলে ভেড়াতে এরই মধ্যে মিনেসোটা ভাইকিংস এবং আটলান্টা ফ্যালকনসের মতো দলগুলো তোড়জোড় শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, কার্ডিনালসের ‘ফেলনা’ এই তারকা নতুন ঠিকানায় নিজেকে কতটা পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন।
সবশেষে মারে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অ্যারিজোনার সেই সমর্থকদের, যারা দুর্দিনে তার পাশে ছিলেন। তবে অ্যারিজোনার আকাশে এখন একটাই প্রশ্ন—মারে পরবর্তী যুগে কার্ডিনালস কি পারবে তাদের ৭৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে? সময় সেটা বলে দেবে।