এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: মার্কিন কংগ্রেসের কাছে মুখ খুলতে অস্বীকৃতি গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের
ওয়াশিংটন ডিভিসি – কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সাজাপ্রাপ্ত সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সোমবার হাউজ ওভারসাইট কমিটির এক রুদ্ধদ্বার ভার্চুয়াল শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে মার্কিন সংবিধানের ‘পঞ্চম সংশোধনী’ (Fifth Amendment) বা নিরব থাকার অধিকারের সুযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৬৪ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে নাবালিকা পাচার ও যৌন অপরাধে সহায়তার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কমিটির পক্ষ থেকে তাকে এপস্টাইনের অপরাধচক্র এবং তার প্রভাবশালী সহযোগীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল।
ক্ষমা না পেলে মুখ খুলবেন না
ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবী ডেভিড মার্কাস জানিয়েছেন, তার মক্কেল কেবল তখনই পূর্ণ সত্য প্রকাশ করতে প্রস্তুত, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘ক্লেমেন্সি’ বা দণ্ড মকুবের ঘোষণা দেন। মার্কাস এক বিবৃতিতে বলেন, “সত্যের মূল্য অনেক। গিলেইন ম্যাক্সওয়েল সত্য বলতে আগ্রহী, কিন্তু তার আগে তাকে আইনি সুরক্ষা বা ক্ষমা প্রদান করতে হবে।”
ম্যাক্সওয়েলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে জড়িয়ে সাবেক দুই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ভুল। ম্যাক্সওয়েল একা এই বিষয়টি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন বলে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রতিক্রিয়া
হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার এই ঘটনায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ম্যাক্সওয়েলের এই অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের কাছে তার এবং এপস্টাইনের অপরাধ এবং এতে জড়িত অন্যদের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল। কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি।”
কমিটির রিপাবলিকান সদস্যরা মনে করছেন, ম্যাক্সওয়েলের নিরবতা বজায় রাখা এবং ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি মূলত কারাগার থেকে মুক্তির একটি কৌশল। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ তুলেছেন যে, ম্যাক্সওয়েল নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
প্রেক্ষাপট
২০২১ সালে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে নাবালিকাদের ফুসলিয়ে এপস্টাইনের কাছে নিয়ে আসার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২২ সালে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে জেলখানায় আত্মহত্যা করার পর থেকেই তার অপরাধের পেছনের বড় নামগুলো আড়ালে থেকে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। মার্কিন কংগ্রেস এখন সেই অন্ধকার অধ্যায়গুলোই উন্মোচনের চেষ্টা করছে।
তবে ম্যাক্সওয়েলের এই অনড় অবস্থান এপস্টাইন কেলেঙ্কারির তদন্তকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।