এপস্টাইন কেলেঙ্কারির জের: পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ প্রধান

0

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ডাউনিং স্ট্রিট প্রশাসনে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত নতুন নথিপত্র প্রকাশের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী যোগাযোগ প্রধান (Communications Chief)।

লন্ডন থেকে বিশেষ প্রতিবেদন:
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারির নতুন ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে ব্রিটেনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার যখন অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কাজ করছিল, ঠিক তখনই এই পদত্যাগের ঘটনা সরকারকে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে।

পদত্যাগের নেপথ্যে কারণ
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জনসমক্ষে আসা কিছু নথিতে দেখা গেছে যে, এপস্টাইনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটের ওই উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অতীত যোগাযোগ ছিল। যদিও সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি, তবে নৈতিক অবস্থান এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন বলে মনে করা হচ্ছে।

চাপের মুখে স্টারমার প্রশাসন
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিরোধী দলগুলো এপস্টাইন নথিতে নাম থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মকর্তাদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। বিশেষ করে লেবার পার্টির স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। স্টারমারের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তার পদত্যাগকে বিরোধী দলগুলো ‘সরকারের নৈতিক পরাজয়’ হিসেবে দেখছে।

বিরোধী দলের একজন ছায়া মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “জনগণ ডাউনিং স্ট্রিটের কাছে স্বচ্ছতা আশা করে। এই পদত্যাগ প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে আরও অনেক কিছু লুকানো রয়েছে যা তদন্ত করা প্রয়োজন।”

সরকারের প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যোগাযোগ প্রধান ব্যক্তিগত কারণে তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বিগত দিনের কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।” তবে এপস্টাইন কেলেঙ্কারি বা নথিপত্র সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিট সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে এপস্টাইন কেলেঙ্কারি পুনরায় চাঙ্গা হওয়া কিয়ার স্টারমারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তার প্রশাসন যখন ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতি’র প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তখন এই ধরনের বিতর্ক জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যোগাযোগ প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তার বিদায় ডাউনিং স্ট্রিটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ে ঘাটতি তৈরি করতে পারে।

আগামী দিনগুলোতে পার্লামেন্টে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে আরও কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *