ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিওর দায় রিপাবলিকানদেরই : মতামত
মার্কিন রাজনীতির শিষ্টাচার আবারও ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে ‘বানর’ হিসেবে উপস্থাপন করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে ওয়াশিংটনে।
তবে এবারের ঘটনাটি নিছক কোনো রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং এর গায়ে লেগে আছে গভীর বর্ণবাদের দাগ।
ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা মিনিটখানেকের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জঙ্গলের মধ্যে দুটি বানরের মুখে বারাক ও মিশেল ওবামার ছবি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আবরণে তৈরি এই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওটি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরেই ডিলিট করে দেওয়া হলেও, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।
শুরুতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টিকে ‘লায়ন কিং’ সিনেমার অনুকরণে তৈরি নিছক একটি ‘মিম’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। উল্টো ডেমোক্র্যাটদের ‘মেকি ক্ষোভ’ থামানোর উপদেশও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সমালোচনার ঝড় উঠতেই সুর পাল্টেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এখন বলা হচ্ছে, কোনো এক ‘নামহীন’ কর্মী ভুল করে এটি পোস্ট করেছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মধ্যরাতে দেশের প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন স্পর্শকাতর ভিডিও পোস্ট করার অনুমতি একজন সাধারণ কর্মীর থাকে কীভাবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দায় কেবল ট্রাম্পের একার নয়, বরং তাঁকে যারা ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছেন, সেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদেরও কাঁধে নিতে হবে এই বর্ণবাদী আচরণের দায়ভার। বিষয়টি এতটাই কুরুচিপূর্ণ যে, ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থকরাও এ নিয়ে প্রকাশ্যে সাফাই গাইতে অস্বস্তিতে পড়ছেন।
এদিকে নিজ দলের ভেতর থেকেও মৃদু প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে।
রিপাবলিকান দলের কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর টিম স্কট একে ‘হোয়াইট হাউস থেকে আসা সবচেয়ে বর্ণবাদী ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে দলের বাকি শীর্ষ নেতারা বরাবরের মতোই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তাদের এই নীরবতা যেন ট্রাম্পের এমন আচরণকেই পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগাচ্ছে।
ট্রাম্পের জন্য অবশ্য এটি নতুন কিছু নয়। এর আগেও হাইতি বা আফ্রিকার দেশগুলোকে নিয়ে ‘শিটহোল কান্ট্রি’ বা অশালীন মন্তব্য করে তিনি নিজের অবস্থান জানান দিয়েছিলেন। তবে ওবামা দম্পতির প্রতি তার এই বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ আবারও প্রমাণ করল, মার্কিন প্রেসিডেন্সির মর্যাদা রক্ষায় ট্রাম্পের উদাসীনতা চরমে পৌঁছেছে।