গ্রিনল্যান্ড প্রস্তাবে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে ট্রাম্প প্রশাসন

0
trump-walks-to-marine-one-after-landing-in-switzerland

গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর যে খোয়াব ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখেছিলেন, তা আপাতত ফাইলবন্দিই থাকছে। নেটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেষ পর্যন্ত ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব মেনেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন এক চুক্তির পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।

অথচ কয়েক ঘণ্টা আগেও চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

দাভোসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প রীতিমতো হুংকার ছেড়েছিলেন আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড চাই-ই চাই। ডেনমার্ককে দুর্বল আর নেটোকে অকৃতজ্ঞ বলতেও ছাড়েননি তিনি। কিন্তু রুটের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সেই ট্রাম্পই বেরিয়ে এলেন ‘চুক্তির রূপরেখা’ হাতে, যেখানে দখলের চেয়ে কৌশলগত অংশীদারত্বই মুখ্য। এমনকি ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা থেকেও পিছু হটেছেন।

সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, রুটের প্রস্তাবিত এই রূপরেখায় গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। বিষয়টি ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও তিনি একে মেনে নিয়েছেন।

মূলত ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তিটিকেই ঘষেমেজে সময়োপযোগী করা হচ্ছে। এর আওতায় আমেরিকা দ্বীপটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারবে এবং প্রয়োজনে নতুন ডিফেন্স এরিয়া বা প্রতিরক্ষা অঞ্চল গড়ে তুলতে পারবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ‘অশুভ প্রভাব’ মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডে ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে এই চুক্তিতে।

তবে রাজনীতির মাঠের ঝানু খেলোয়াড় ট্রাম্প এই ‘আপস’কেও নিজের বিজয় হিসেবেই দেখাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার অংশ হবে কি না তা কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে একে ‘অনন্তকালের চুক্তি’ বা ‘আল্টিমেট লং-টার্ম ডিল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্ক রুট দাবি করেছেন, বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি নাকি ওঠেইনি! যদিও ট্রাম্প এর আগে বহুবার বলেছেন, পুরো নিয়ন্ত্রণ না পেলে তিনি কোনো চুক্তিতেই যাবেন না।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য ট্রাম্পের এই ইউ-টার্নকেও দেখছেন ভিন্ন চোখে। তিনি ট্রাম্পকে ‘ডিলমেকার ইন চিফ’ উপাধি দিয়ে দাবি করেছেন, নামমাত্র খরচে আমেরিকা তার সব কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে যাচ্ছে।

পর্দার আড়ালের খবর হলো, রুটের এই প্রস্তাবটি আসলে ডেনমার্কের সেই পুরনো প্রস্তাবেরই প্রতিধ্বনি, যা তারা অনেক দিন ধরেই টেবিলে রেখেছিল সার্বভৌমত্ব দেব না, তবে সামরিক সহযোগিতা বাড়াব। শেষমেশ সেই পথেই হাঁটতে হচ্ছে আমেরিকাকে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোপেনহেগেন ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত দরকষাকষি শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এবারের আলোচনাটা হবে দখল নিয়ে নয়, বরং কৌশলগত সুবিধা আদায় নিয়ে। এখন দেখার বিষয়, ডেনমার্ক এই বর্ধিত সামরিক চাপে কতটা নমনীয় হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।