মারকিউতে রসিকতার জেরে প্রেক্ষাগৃহ থেকে ‘মেলানিয়া’ সরিয়ে নিল আমাজন

0
mard74c

ক্ষমতাবানদের চামড়া নাকি গন্ডারের মতো হয়, কিন্তু ইগোটা কাঁচের মতো ঠুনকো। ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা জেফ বেজোস রসিকতা হজম করার ক্ষমতা যে দুজনেরই তলানিতে, তা আবারও প্রমাণ হলো ওরেগনের একটি ঘটনায়। মেলানিয়া ট্রাম্পের ডকুমেন্টারি নিয়ে সামান্য একটু ‘মজা’ করেছিল স্থানীয় এক সিনেমা হল, আর তাতেই চটে লাল আমাজন কর্তৃপক্ষ।

ফলাফল মাঝপথেই বন্ধ করে দেওয়া হলো প্রদর্শনী।

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের ‘লেক থিয়েটার অ্যান্ড ক্যাফে’ বরাবরই তাদের সাইনবোর্ডে চটকদার ও বুদ্ধিদীপ্ত বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য পরিচিত। গত সপ্তাহে আমাজন এমজিএম-এর বিতর্কিত ডকুমেন্টারি ‘মেলানিয়া’ মুক্তির পর তারা ভেবেছিল, চিরাচরিত ঢঙেই দর্শকদের আকৃষ্ট করবে। হলের বাইরের বিশাল মার্কি বা সাইনবোর্ডে লেখা হলো, “মেলানিয়া কি প্রাডা পরেন? শুক্রবারেই জেনে নিন।” আবার কখনও লেখা হলো যুদ্ধবিদ সান জু-এর উদ্ধৃতি, “শত্রুকে হারাতে হলে তাকে জানতে হবে। মেলানিয়া শুরু হচ্ছে শুক্রবার।”

কিন্তু করপোরেট কর্তাদের এসব সটায়ার বা ব্যঙ্গ ভালো লাগেনি।

হল ম্যানেজার জর্ডান পেরি জানান, আমাজনের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন সিনেমাটি নামিয়ে ফেলতে। পেরিও দমে যাওয়ার পাত্র নন। আমাজনের এই ‘হুকুম’ তামিল করার পর তিনি সাইনবোর্ডে নতুন এক বার্তা লিখে দেন, যা ছিল আরও ধারালো। সেখানে লেখা হয়, “আমাজন ফোন করেছিল। আমাদের সাইনবোর্ড দেখে তারা ক্ষেপেছে। মেলানিয়ার সব শো বাতিল। আপনারা বরং হোল ফুডস-এ (আমাজনের মালিকানাধীন গ্রোসারি চেইন) গিয়ে সমর্থন দেখান।”

তবে বিষয়টি এতটাই সহজ নয়।

পেরি ওরেগনিয়ান পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, এই সিনেমাটি চালানোই ছিল আসলে এক ধরণের ‘সামাজিক পরীক্ষা’ বা প্র্যাঙ্ক। ওরেগনের ওই এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে ঘোরতর বাম-ঘেঁষা বা লিবারেল। সেখানে ট্রাম্প পরিবারের কারো গুণগান সম্বলিত ডকুমেন্টারি চালানোটা অনেকটা আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো।

স্থানীয় দর্শকরা আমাজন চটে যাওয়ার আগেই হল কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন। পেরির ভাষায়, “আমাদের কাছে অসংখ্য ইমেইল আর ভয়েস মেইল আসছিল। সবাই জানতে চাইছিল, আমাদের মতো প্রগতিশীল এলাকার সিনেমা হলে মেলানিয়া ট্রাম্প কী করছেন!”

হল কর্তৃপক্ষ ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে লিখেছে, জনরোষের কারণে নয়, বরং কিছু করপোরেট এক্সিকিউটিভের ধমকে শো বন্ধ হলো। তবে আমাজন, দয়া করে আমার প্রাইম মেম্বারশিপটা বাতিল করবেন না।

মজার ব্যাপার হলো, এত হট্টগোলের পরেও সিনেমাটি ওই হলের বক্স অফিসে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। সপ্তাহান্তে মাত্র ১৯৬ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছিল। পেরি ভেবেছিলেন, ট্রাম্প-বিরোধী এলাকায় সিনেমাটি চালানো হবে এক ধরণের ‘ডার্ক কমেডি’। কিন্তু আমাজনের অসহিষ্ণুতা সেই রসিকতাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল।

যদিও জাতীয় পর্যায়ে ডকুমেন্টারিটি ভালো ব্যবসা করছে, কিন্তু সমালোচকদের কলমের খোঁচা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তবে ওরেগনের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বাক-স্বাধীনতার দেশেও করপোরেট ইগোর কাছে ছোট বাণিজ্যের স্বাধীনতা কতটা অসহায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *