মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর পক্ষে শিক্ষা উপদেষ্টা

0
sikka-upodesta

দেশপ্রেম মানে কি কেবল ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়গুলো মনে রাখা? বিষয়টি মোটেও তা নয়।

শনিবার টাঙ্গাইলের নাগবাড়ি হাসিনা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের এক ভিন্ন সংজ্ঞা শোনালেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তাঁর মতে, সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা আর ন্যায়বিচারের চর্চাই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম।

তবে বিষয়টি কেবল ভালো মানুষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও দেশপ্রেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের ভাবনার কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি।” শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মুখস্থবিদ্যা-নির্ভর শিক্ষার জট খোলার ইঙ্গিতই যেন মিলল তাঁর কথায়।

অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল বেশ আবেগঘন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব এবং স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আফরোজ হোসেন সিদ্দিকীকে ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। গুণীজনদের এই সম্মান জানানোর মুহূর্তটি উপস্থিত দর্শকদের আলোড়িত করে।

ড. আশরাফ সিদ্দিকীর অবদানের কথা স্মরণ করতে গিয়ে কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন অধ্যাপক আবরার। তিনি বলেন, “সাইকেল চালিয়ে, কাঁধে টেপ রেকর্ডার নিয়ে গ্রামগঞ্জে ঘুরে লোকসাহিত্য সংগ্রহের সেই দিনগুলোর কথা আজকের গবেষকদের কাছে এক বিরল দৃষ্টান্ত।” বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়েও ড. সিদ্দিকী যে মাটির টানে দেশে ফিরে শিক্ষার প্রসারে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বহু পরিচয়ের দেশ। ভাষা, সংস্কৃতি আর জাতিগোষ্ঠীর এই ভিন্নতাই আমাদের শক্তি। এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সরকারের অন্দরমহলের খবরও দেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং পাঠ্যবইয়ের মান বাড়ানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল কাশেম চৌধুরী। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্কুল প্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *