বিক্রি কমায় ও এআই খরচে টেসলার মুনাফায় ধস

0
elon-musk-speaks-at-the-world-economic-forum

গাড়ির বিক্রি কমেছে, মুনাফায় বড় ধস নেমেছে। সাধারণ হিসাবে টেসলার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার কথা। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিটের হিসাবটা বোধহয় একটু আলাদা। ইলন মাস্ক যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর রঙিন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তখন বর্তমানের এই করুণ আর্থিক চিত্রকেও যেন পাত্তাই দিচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

সদ্য প্রকাশিত চতুর্থ প্রান্তিকের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, টেসলার নিট আয় এক বছর আগের তুলনায় ৬১ শতাংশ কমে ৮৪ কোটি ডলারে ঠেকেছে।

শুধু আয় কমাই নয়, কমেছে রাজস্বও। গত বছরের তুলনায় আয় ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি ডলারে। উল্টোদিকে পরিচালন ব্যয় এক লাফে ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার হওয়ায় লাভের গুড় অনেকটাই পিঁপড়েয় খাওয়ার দশা; অপারেটিং মার্জিন গত বছরের ৬.২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৭ শতাংশে।

এর পেছনে অবশ্য মাস্কের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাস্কের অতিরিক্ত মাখামাখি এবং পরে ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’র নেতৃত্ব থেকে সরে আসা সব মিলিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। যার সোজা আঘাতটা এসে লেগেছে টেসলার গাড়ি বিক্রির খাতায়। ২০২৫ সালে টেসলার গাড়ি ডেলিভারি ৮.৬ শতাংশ কমে ১.৬৪ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

তবে মাস্ক তো মাস্কই।

বর্তমান ব্যবসার এই নড়বড়ে অবস্থার মধ্যেও তিনি বাজি ধরছেন ভবিষ্যতের ওপর। ডাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট বিক্রি শুরু করবে টেসলা। তাঁর ভাষায়, “আমার মনে হয় পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই একটি করে রোবট চাইবে।” শুধু তাই নয়, টেক্সাসের অস্টিনে চালকবিহীন গাড়ির সেবা বা ‘সাইবারক্যাব’ নিয়েও তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা শিগগিরই পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যেই আবার নিজের এআই স্টার্টআপ ‘এক্সএআই’-এ ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন মাস্ক। সোজা কথায়, গাড়ি বিক্রি করে টাকা এনে সেই টাকা তিনি ঢালছেন রোবট আর এআই-এর ফিউচারিস্টিক প্রজেক্টের পেছনে।

বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও বাজার কিন্তু ইতিবাচক।

এত সব নেতিবাচক আর্থিক খবরের পরেও আফটার-আওয়ার্স ট্রেডিংয়ে টেসলার শেয়ারদর ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা হয়তো বর্তমানের লোকসানের খাতার চেয়ে মাস্কের দেখানো ভবিষ্যতের স্বপ্নের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন। টেসলাও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা ক্লিন এনার্জি, রোবট এবং ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য ছয়টি নতুন প্রোডাকশন লাইন চালু করতে যাচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, এআই-এর এই ফানুস উড়িয়ে টেসলা কতদিন বিনিয়োগকারীদের মুগ্ধ করে রাখতে পারে, নাকি দিনশেষে গাড়ি বিক্রির টাকাই হয়ে দাঁড়াবে আসল ত্রাতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *