টেক স্টকের পতন থামলেও আবার দরপতন রুপার বাজারে
বিশ্ববাজারে তোলপাড় চলছে। প্রযুক্তির শেয়ারগুলো টানা পতনের পর বৃহস্পতিবার যেন একটু হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে, কিন্তু রুপোর বাজারে রক্তক্ষরণ থামছেই না। বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এটা কি ঝড়ের পূর্বাভাস নাকি সাময়িক বিরতি?
বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে যে নজিরবিহীন দরপতন চলছিল, তাতে কিছুটা লাগাম পড়েছে।
নাসডাক ১০০ ফিউচার্স সামান্য মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, যদিও আগের দুই সেশনে সারা বছরের অর্জন ধুয়েমুছে গিয়েছিল। তবে ইউরোপের শেয়ারবাজারের চিত্র ভিন্ন; সেখানে অটোমোবাইল আর জ্বালানি খাতের দুর্বলতায় সূচক নিম্নমুখী।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে। গুগল বা অ্যালফাবেটের মতো কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামোতে দেদারসে খরচ করছে, যা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে যে এই বিপুল বিনিয়োগের প্রতিদান মিলবে তো? তবে অ্যালফাবেটের এই খরচ বৃদ্ধির খবরে ব্রডকমের মতো চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের পালে হাওয়া লেগেছে।
তবে শেয়ারবাজারের চেয়েও বড় নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
রুপোর দরে যেন ধস নেমেছে; একধাক্কায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়ে ঐতিহাসিক দরপতনের মুখে এই ধাতু। সোনার দামও আউন্সপ্রতি ৪,৯০০ ডলারের নিচে নেমে গেছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় এক ধাক্কা। বিটকয়েনও ৭০,০০০ ডলার স্পর্শ করেছে, যা ক্রিপ্টো বাজারে অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। কেবিসি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল ইকুইটি প্রধান আন্দ্রেয়া গ্যাবেলোন মনে করছেন, সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর শেয়ার এখন বেশ চাপে থাকলেও শীঘ্রই হয়তো বাজারের টনক নড়বে এবং পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতার ঢেউ লেগেছে পাউন্ডের গায়ে।
প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টামারের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ব্রিটিশ পাউন্ডের বড়সড় দরপতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাজ্যের সম্পদের ওপর ঝুঁকি নিতে নারাজ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের সুদের হারের সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার নজর।
অন্যদিকে জ্বালানি জায়ান্ট শেল পিএলসি জানিয়েছে, তাদের মুনাফায় বড় ধস নেমেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং রাসায়নিক ব্যবসার দুর্বলতাই এর মূল কারণ। তবে মার্কিন অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন পেপারস্টোনের কৌশলবিদ মাইকেল ব্রাউন, যা বিনিয়োগকারীদের কিছুটা ভরসা জোগাচ্ছে।
বাজারের এই উথালপাতাল পরিস্থিতি আসলেই কতটা গভীর, তা সময়ই বলে দেবে।