আফফান আওয়াদ
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত:
১৮ জুলাই, ২০১৯ ০২:৩৭ এএম
আপডেট:
১৮ জুলাই, ২০১৯ ০৫:০৭ এএম


কলরবশিল্পীদের অন্ধকার জগত

আবু রায়হানের অবৈধ ফোনসেক্সের অডিও কি ফেইক?


আবু রায়হানের অবৈধ ফোনসেক্সের অডিও কি ফেইক?

জাতীয় শিশুকিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের নারীকেলেংকারি নিয়ে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। কলরবের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিল্পী শামীম আহমাদের অবৈধ যৌনমিলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলরবের এ সমালোচনা ব্যাপক হওয়ায় কলরব থেকে জানানো হয়, শিল্পী শামিমকে ইতিমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শামিমের অব্যাহতির খবর শুনে আবারও সমালোচনা ওঠে যে, নারীকেলেংকারির দায়ে কেবল শামিমকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে, ইতিপূর্বে তো কলরবের সিনিয়র শিল্পী আবু রায়হানের বিরুদ্ধেও এমন কেলেংকারির অভিযোগ উঠেছিল, তার বেলায় কলরব কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করল না?

আরও পড়ুন >কলরব থেকে শামিমের অব্যাহতি, আবু রায়হানের বিচার করবে কে? (ভিডিও-সহ)

এ সমালোচনার প্রেক্ষিতে টাইম টিউন একটি মেয়ের সঙ্গে আবু রায়হানের নোংরা ফোনালাপের অডিও রেকর্ডসহ একটা প্রতিবেদন করেছিল। বছর দুয়েক আগে প্রকাশ পাওয়া এসব অডিও রেকর্ড নিয়ে তখন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক ঝড় উঠেছিল।

কিন্তু গত সপ্তাহে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কলরবের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান দাবি করেন, আবু রায়হানের ফোনসেক্সের ওই অডিও রেকর্ডটি আসলে আবু রায়হানের না। তাঁর অসামান্য 'জনপ্রিয়তা' এবং 'সাফল্যে' ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আবু রায়হানের কণ্ঠ নকল করে এ অডিও রেকর্ডটি বানিয়েছে।

বদরুজ্জামানের এ দাবির প্রেক্ষিতে টাইম টিউনের কাছে আবু রায়হানকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু তথ্য আসে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলরবের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আবু রায়হানের ভাইরাল হওয়া নোংরা ফোনালাপের ওই অডিওগুলো একদমই ফেইক না। যে মেয়ের সঙ্গে এ ফোনালাপ হয়েছিল সে মেয়েটির সঙ্গে তাঁর একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হবার পর মেয়ের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ফলে মেয়ে উপায়ান্তর না দেখে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে এ ফোনালাপগুলো অনলাইনে পাবলিশ করে দেয়।

আরও পড়ুন >অবৈধ যৌনমিলনে কলরবের শিল্পী শামিম

তারা বলেন, ফোনালাপটা যে আবু রায়হানের, আবু রায়হানের স্বাভাবিক কথাবার্তা যে শুনেছে, সহজেই অনুমান করে নিতে পারবে। ফেইক বা নকল হলে অন্তত খানিকটা পার্থক্য থাকত, কিন্তু এখানে তাঁর কণ্ঠ অবিকল, যা ফেইক ভয়েস দিয়ে তৈরি করা অসম্ভব।

সূত্রগুলো আরও জানায়, আবু রায়হান এখন বিবাহিত। এই বিয়েটি তিনি অবৈধ কাজে ধরা খেয়ে বাধ্য হয়ে করেছেন। নীলফামারী জেলার ভবানিগঞ্জের ধোবাডাঙ্গা এলাকার এক মাওলানার মেয়ের সঙ্গে বছর তিনেক আগে আবু রায়হান নিজের সুর ও খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মেয়েটির আত্মীয়ের বাসা রাজধানীর খিলগাঁওয়ে। মেয়ে প্রায়ই ওই আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে আসত। সম্পর্ক হবার পর বছর দুয়েক আগে সে যখন খিলগাঁওয়ের ওই বাসায় আসে, তখন আবু রায়হানকে দাওত করে বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় যাবার পর আবু রায়হান তার সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়লে বাসার অন্যরা টের পেয়ে যায়। তারা আবু রায়হানকে আটকে রেখে তখন চাপ দেন মেয়েকে এখনই বিয়ে করার জন্য। আবু রায়হান নিরুপায় হয়ে একটি স্ট্যাম্পে দস্তখত করে সাক্ষীর মাধ্যমে এই ওয়াদা দিয়ে ছুটে আসেন যে, মেয়েটিকে তিনি শিগগির বিয়ে করবেন। কিন্তু ওখান থেকে ছুটে আসার পর মেয়েটির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ কমিয়ে দেন। আত্মীয়রা বিয়ের জন্য তাগদা দিলে তিনি নানা টালবাহানা করে ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যান। বছরখানেক এভাবে চলার পর মেয়ের আত্মীয়রা মামলার প্রসেসিং শুরু করলে আবু রায়হান গোপনে ঘরোয়াভাবে মেয়েটিকে বিয়ে করেন। বর্তমানে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা সংসার করছেন।

এদিকে কলরব ও আবু রায়হানকে নিয়ে সম্প্রতি নানা সমালোচনা উঠলে এবং টাইম টিউন এ নিয়ে দুটো প্রতিবেদন প্রকাশ করলে অসংখ্য মানুষজনের কাছ থেকে টাইম টিউনের ইমেইলে কলরবশিল্পীদের অনৈতিকতা ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ আসতে থাকে। কিন্তু কেউই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি না।

তাদের মধ্য থেকে একজন জানিয়েছেন, রাজধানীতে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করেন এইচ এম কুরবান আলি নামক এক ব্যক্তি। ইসলামি সঙ্গীত শোনার সুবাদে তিনি কলরবকে খুব ভালোবাসতেন। বিশেষ করে আবু রায়হানকে। তাঁর বাসা মতিঝিল এলাকায়। ভালোবাসার খাতিরে আবু রায়হানকে তিনি নিজের বাসার একটি অংশ ভাড়া দিয়েছিলেন। আবু রায়হানের সঙ্গে ওই বাসায় কলরবের আরেক শিল্পী ইকবাল মাহমুদও থাকতেন। একদিন কুরবান আলির অজান্তে ওই বাসায় কলরবশিল্পী ইলিয়াস আমিন একটি মেয়েকে নিয়ে আসেন। এবং বাড়ির কেয়ারটেকার তাদেরকে ধরে ফেলেন। এই ঘটনায় কুরবান আলি বাড়ির কেয়ারটেকারকে নিয়ে কলরবের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিবেচিত সংগঠন ইসলামি আন্দোলনের অফিসে বিচার নিয়ে যান। এদিকে আবু রায়হান এই ঘটনার পর বাসাটি ছেড়ে দেন, কিন্তু বাড়িভাড়া বাবদ বড় অংকের একটা পাওনা আজ অবধি পরিশোধ করেননি।

অভিযোগকারীর এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কুরবান আলির ফোন নম্বর জোগাড় করে টাইম টিউন থেকে কথা বললে টাইম টিউনের বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন >আইনুদ্দীনের বাবা হাসপাতালে : খোঁজ নেয়নি কলরবের কেউ!

এদিকে টাইম টিউনের ইমেইলে একটি মেইল আসে এতে উল্লেখ ছিল আবু রায়হানের ব্যাপারে কয়েকটি  অর্থ কেলেংকারির অভিযোগ। মিলি উল্লেখ ছিল লঞ্চ বসায়ী মামুন সাথে মোবাইল নাম্বারও দেয়া ছিল এ নাম্বারে টাইমটিউন যোগাযোগ করে মামুনির সাথে। মামুন জানান, কলরব এবং আবু রায়হানের সঙ্গে একসময় তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে আবু রায়হান তাকে ব্যবসায় শেয়ার করবে বলে ব্যবসা বাবদ তার কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা নেন। এবং এই টাকা গ্রহণের প্রমাণ স্বরূপ আবু রায়হান তাঁকে ৮ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। বছর খানেক পর মিস্টার মামুন আবু রায়হানের কাছে ব্যবসার হিসাব এবং টাকা চাইলে আবু রায়হান ব্যবসায় লোকসান হয়েছে বলো জানান। এভাবে গড়িমসির আরও কিছুদিন পর আবু রায়হান প্রদত্ত ৮ লাখ টাকার ওই ব্যাংক চেক দিয়ে টাকা ওঠাতে গেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের আক্কেল গুড়ুম হয়। ব্যাংক থেকে তিনি জানতে পারেন আবু রায়হানের ওই একাউন্টে কোনো টাকাই জমা নেই। পরে তিনি উপায়ান্তর না দেখে কলরবের পরিচালক রশিদ আহমদ ফেরদৌসের কাছে ব্যাপারটি জানান। এরপরে একদিন মামুন রাজধানীর পল্টনস্থ হোটেল খানাবাসমতিতে বসে নাশতা করছিলেন, খবর পেয়ে আবু রায়হান আরও কয়েকজন ছেলে নিয়ে এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে খানা বাসমতির ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামুনকে মারধরের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। মামুন জানান, ওই হামলার ফুটেজ খানাবাসমতির সিসি ক্যামেরায়ও সংরক্ষিত আছে।

টাইম টিউনকে মামুন আরও জানান, আবু রায়হানের চেক জালিয়াতির ওই ঘটনায় তিনি একটি মামলাও করেছেন, মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।

টাইম টিউনের মেইল বক্সে এ ছাড়া আরও নানানতর অভিযোগ এসেছে কলরব ও কলরবের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অভিযোগকারীরা নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক থাকার কারণে এবং ঘটনার সত্যাসত্য পুরোপুরি নিশ্চিত না হবার কারণে সেগুলো প্রকাশ থেকে টাইম টিউন বিরত থাকছে। তবে প্রতিটা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তা জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য টাইম টিউনের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। 

ইসলামের নাম ভাঙিয়ে এ দেশের মানুষের কাছে শুদ্ধ সংস্কৃতি উপহার দেওয়ার কথা বলে কলরব দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করলেও কলরবশিল্পীদের অন্ধকার জীবনের এসব গল্প সত্যিই উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার।


আপনার মতামত লিখুন :
বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর

আরো পড়ুন
ভাতগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মেম্বারের ভুয়া তালিকায় ৭০বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ 
 ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড

ভাতগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মেম্বারের ভুয়া তালিকায় ৭০বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ 

ছাতকের ভাতগাঁও ইউনিয়নের ৮ ৯ নং ওয়ার্ডে ত্রাণের চাউল বিতরণের…

দিরাইয়ে বন্দুকধারীর গুলি ৭ জন গুলিবিদ্ধ ;থানায় অভিযোগ

দিরাইয়ে বন্দুকধারীর গুলি ৭ জন গুলিবিদ্ধ ;থানায় অভিযোগ

 কথায় কথায় বন্দুক, কথায় কথায় গুলি এ হলো দিরাই উপজেলার…

ইউসুফ আলীর বিরোদ্ধে আনিত অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত

ইউসুফ আলীর বিরোদ্ধে আনিত অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার ইউসুফ…

রাতের আঁধারে ঘরে ঘরে ঈদ উপহার নিয়ে আল-ইখওয়ান এডুকেশন ট্রাস্ট

রাতের আঁধারে ঘরে ঘরে ঈদ উপহার নিয়ে "আল-ইখওয়ান এডুকেশন ট্রাস্ট"

করোনার ভয়াল থাবায় পুরো দেশে অচলাবস্থা বিরাজমান। যার ফলে শ্রমজীবী,…

মুখোশ মূর্তি : শায়েন্তা মজুমদার

মুখোশ মূর্তি : শায়েন্তা মজুমদার

মুখোশ মূর্তি শায়েন্তা মজুমদার   লিখেছি পদ্য, লিখেছি গদ্য, পটে…

জন্মদিনে ঈদ উপহার নিয়ে ঘরে ঘরে চবি ছাত্রলীগ নেতা দিনার

জন্মদিনে ঈদ উপহার নিয়ে ঘরে ঘরে চবি ছাত্রলীগ নেতা দিনার

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে নিম্ন আয়ের…

শুভ জন্মদিন “অনিক শুভ”

শুভ জন্মদিন “অনিক শুভ”

ওষুধ বিজ্ঞানী হলেও বাংলা সাহিত্যের পাঠকপ্রিয় লেখক “অনিক শুভ”। ওষুধ…

মুক্তিযোদ্ধা প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল মান্নান স্মৃতি পরিষদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ 

মুক্তিযোদ্ধা প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল মান্নান স্মৃতি পরিষদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ 

সিলেট শহরতলীর বড়গুল এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল মান্নান স্মৃতি…