প্রকাশিত:
০৫ জুলাই, ২০১৯ ০৩:২৭ পিএম


উপেক্ষিত কিছু মানুষ: জেনিফার জামাল চৌধুরী


উপেক্ষিত কিছু মানুষ: জেনিফার জামাল চৌধুরী

আমরা বাঙালী জাতি। সংখ্যাই আমরা ১৬ কোটি বা তার চেয়েও বেশি। বড়ই অদ্ভুত আমরা। ডিস্কোভারি চ্যানেল এ ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বেয়ার গ্রিলস এর পোঁকা চিবানো দেখতে আমাদের কোনা আলসেমি হয়না। কিন্তু পথ শিশুরা যখন ডাস্টবিন থেকে খাবার খুঁজে খাই, তখন আমাদের মাঝে কোনো অনুভূতি কাজ করেনা তাদের উপেক্ষা করে চলে যায়।

আমরা ময়লাকে তো খুব ঘৃণা করি কিন্তু ময়লা পরিষ্কারক যে তাকেও ঘৃণা করি। একটা মানুষ যে ময়লা পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিয়েছে তাকে দেখলেই আমরা নাক ছিটকাইয়া বলি "ওয়াক! থুঃ! ক্যামনে পারে!"। কোথায় তাকে একটা ধন্যবাদ জানাবো এত বড় একটা কাজ সম্পন্ন করার জন্য সেই তাকে আমরা ঘৃণা করি। ঘৃণা করা উচিৎ তাদের যারা ডাস্টবিন থাকার সত্ত্বেও এর ভেতর ময়লা না ফেলে বাহিরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে, ঘৃণা করা উচিৎ তাদের যারা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। কিন্তু না আমরা তাদের ঘৃণা করি যারা পরিবেশটা একটু স্বস্তিকর বানানোর দায়িত্ব নিয়েছে। তাদেরকেও উপেক্ষা করে চলে যাই।

নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন নারী। পেটের দায়ে তাকে ঘর থেকে বের হতে হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য। গার্মেন্টস বা অন্যান্য খাতে তাদের চাকুরী করতে দেখা যায়। তাদের জীবন সাধারণত একটা চক্রের মাঝেই থেকে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠবে, সকাল মানে এদের জন্য ৮টা ৯টা না ভোর ৫টা ৬টা। ঘুম থেকে জেগে বাসার সব কাজ করবে পরিবার এর সদস্যদের জন্য রান্না-বান্না, বাসা গুছানো, বাসার যাবতীয় কাজগুলো করে রওনা দিবে কাজের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যাই সারাদিন এর ক্লান্তির পর যখন বাসাই ফিরবে বাসাই মুখ ফুটে কেউ হয়ত জিজ্ঞেসও করেনা "ভালো আছো?" "দিনকাল কেমন কেটেছে?" "অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছ নিশ্চয়! আসো তোমাকে খাবার নিয়েদি"। সে তার মত এসে বাসা গুছিয়ে ঘুমুতে যায় আবার নতুন সকালের আশাই আবার সেই চক্রের মাঝে ঘুরার অপেক্ষায়। তাকেও উপেক্ষা করা হয়।

আমাদের সব চাইতে আপন কাছের মানুষ আমাদের মা-বাবা। পৃথিবীর সব কিছু তাদের কাছ থেকেই জানতে শিখেছি। যখন কিছু ছিলামনা তখন পাশে দাঁড়িয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবার সক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু সন্তান নাম এর কিছু কলঙ্ক আছে যারা মা-বাবার ঋণ ভুলে যায়। ভুলে যায় বাবার হাত ধরে হাটতে শিখেছে, ভুলে যায় বাবা সারাদিন রাত এক করে কাজ করেছে শুধু তার পরিবার সুখে থাকার জন্য। আর আম্মু? তিনি যা করেছেন তা তো মুখে বলেও বোঝানো যাবেনা। তিনি তার সন্তান কে নিজের মাঝে ধারণ করে পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছেন। সেই মা-বাবার সব। ঋণ ভুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের বৃদ্ধাশ্রমে। নিজের সুখ ভুলে গিয়ে সন্তান এর জন্য সব ত্যাগ স্বীকার করার পরও দেশের সব-ক-টা বৃদ্বাশ্রম খালি থেকে যাচ্ছেনা কেন??.

সন্তান এর জন্য সব সুখ বিলিয়ে দিয়েও আজ কিছু মা-বাবা উপেক্ষিত।

লেখক : জেনিফার জামাল চৌধুরী

সম্পাদনায় : অর্ক রায় সেতু


আপনার মতামত লিখুন :
মতামত এর আরও খবর

আরো পড়ুন
ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রাম অঞ্চলের ক্যাম্পে স্থানান্তর শুরু!

ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রাম অঞ্চলের ক্যাম্পে স্থানান্তর শুরু!

ফ্রান্সে অভিবাসীদের গ্রামে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফ্রান্স সরকার।…

৮ বছর বয়সী ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

৮ বছর বয়সী ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের দায়ে শিক্ষককে আটক…

পর্তুগাল আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংঘর্ষে আহত ৬ নিহত ১

পর্তুগাল আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংঘর্ষে আহত ৬ নিহত ১

পর্তুগাল গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাজনীতি পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিএনপির সভাপতি…

মা কোলে নিতেই নড়ে উঠলো মৃত বলে ফেলে রাখা নবজাতক!

মা কোলে নিতেই নড়ে উঠলো মৃত বলে ফেলে রাখা নবজাতক!

চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল সড়কের ‘উপশম নার্সিং হোম’-এ নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে…

সিরিয়া যুদ্ধ: ইদলিবে বিমান হামলায় নিহত ১৮

সিরিয়া যুদ্ধ: ইদলিবে বিমান হামলায় নিহত ১৮

সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে বিমান হামলায় অন্তত ১৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত…

ঢাকা সিটি ভোট পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি

ঢাকা সিটি ভোট পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি

সরস্বতী পূজার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঢাকার দুই সিটির ভোটের তারিখ পরিবর্তন…

বড়লেখায় একসাথে ৫ খুন

বড়লেখায় একসাথে ৫ খুন

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।…

জগন্নাথপুরের পৌর মেয়র চির নিদ্রায় শায়িত আব্দুল মনাফ

জগন্নাথপুরের পৌর মেয়র চির নিদ্রায় শায়িত আব্দুল মনাফ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর সভার সদ্য প্রয়াত মেয়র আলহাজ্ব আবদুল মনাফকে…