দূর প্রবাস


ফ্রান্স প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১৫ মে, ২০১৯ ১২:৫৫ এএম


ফ্রান্সে আরবীদের টার্গেট বাঙ্গালীদের উপর হামলা করা


ফ্রান্সে আরবীদের টার্গেট বাঙ্গালীদের উপর হামলা করা

ফ্রান্স হচ্ছে মানবাধিকারের দেশ, আর বাঙ্গালীদের স্বপ্ন বোনার দেশ। খেয়ে না খেয়ে ভোরবেলা অফুরন্ত ঘুম রেখে,কেউ আবার রাত্রি জেগে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে স্বজনদের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের দেশ ত্যাগ করে সাদা চামড়ার দেশে আশা । ফ্রান্সে কী নেই সবই আছে বের হলেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় অট্টালিকা। সারি সারি ইমারাত। আর বিশাল বিশাল দালান।সুন্দর সুন্দর গাড়ি আর সাদা কাল মানুষ। আছে প্রাচূর্য। আছে ঐশ্বর্য। আছে বৃত্ত। চলে নৃত্য। সব মিলিয়ে এক উর্বর ভূমির দেশ ফ্রান্স। কিন্তু দুঃখের বিষয় এদেশে নেই শুধু বাঙ্গালীদের একতা।

ফ্রান্সের সরকার অনেক আন্তরিক। বিদেশীদের অনেক সুনজরে দেখছে এবং ভালবাসে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে সবচে বেশি সুবিধা তারাই দিচ্ছে, যত্মে আর আদরে থাকতেও দিচ্ছে। আর এ সুযোগটি গ্রহণ করে এশিয়া আরব আজম উত্তর আফ্রিকার লোকেরা। ভিড় করে ইউরোপ আমেরিকার অনেক নামী দামী ব্যক্তিরাও। ফ্রান্সে যেমন আছে চলার স্বাধীনতা। তেমনি আছে বলার স্বাধীনতা। কোনো ধরপাকড় নেই। মারামারি হানাহানি নেই। নেই মানুষে মানুষে ভেদাভেদ। বিশৃঙ্খলা কিংবা নীতিহীন বলে কিছু নেই এই সাদা চামড়ার দেশে।

আসল কথা হলো,  ফরাসিতে সব দেশের লোকেদেরই রয়েছে নিজস্ব কমিউনিটি। যেমন পাকিস্তানের লোকেদের রয়েছে নিজস্ব কমিউনিটি। রয়েছে বাঙ্গালিদের আলাদা কমিউনিটি। শ্রীলঙ্কানদের কমিউনিটিও তেমনি ভিন্ন। আফ্রিকান আর আরবিয়ানদেরও রয়েছে আলাদা আলাদা কমিউনিটি। ফ্রান্সের সরকার এসব কমিউনিটি সম্পর্কে  অবগত আছে। কোনো কোনো দেশের লোকেরা তো অনুমতি নিয়েই কমিউনিটি করেছে।

এসব কমিউনিটিগুলো মানুষের কল্যাণে কাজও করে যাচ্ছে। একজন অন্যজনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে। সব সময় সুবিধা-অসুবিধায় পাশে থাকে। বিষয়টা খুবই ভালো।

কিন্তু কথা রয়ে যায়। প্রবাদ আছে, 'যেখানে থাকবে বাঙ্গালী। সেখানে দিবে সবাই গালি।' কমিটির প্রধান হওয়া মানে সেলিব্রেটি হওয়া ফান্ডে টাকা আসা মানি নিজের পকেট ভারী করা, কেউ বিপদে পড়েছে ফোন আসলে শুনেও না শোনার ভান করে ঘরের কোণে বসে থাকা, এটা আমাদের বাঙ্গালীদের স্বভাব। ফ্রান্সে সব দেশের কমিউনিটি থেকে লোকেরা পর্যাপ্ত সেবা পেলেও বাঙ্গালিরা কোনো সেবাই পায় না। বাঙ্গালি কমিউনিটি নামে আছে কিন্তু কামে নেই তাদের পকেট ভারী করার বান্দা ভালোই জানা আছে।
অন্য দেশের কমিউনিটির লোকেরা একজনের বিপদে অন্যজন এগিয়ে আসে। সুবিধা অসুবিধায় পাশে থাকে। কিন্তু বাঙ্গালি কমিউনিটির লোকেরা এসবে নেই আছে শুধু ধান্ধামিতে। তারা চাঁদার আর নিজেদের ধান্ধায় বেস্ত।তারা কারো বিপদে এগিয়ে আসার মতো সময় নেই।

কমিউনিটির একজন সদস্য ও গণ্যমান্য কিছু ব্যক্তি নাম না বলার শর্তে টাইম  টিউন - কে জানিয়েছেন, এ কমিউনিটি শুধু ধান্ধা করার বেলায় পাওয়া যায়। বাস্তবে কোনো কাজে পাওয়া যায় না এটাই সত্যিই।

কমিউনিটির সদস্যদের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের বিবরণ কয়েকদিন যাবত সোস্যাল মিডিয়া বেশ হইচই তুলেছে। অনেকেই তাদেরবে বিপদের শত্রু বলে স্টাটাস দিয়েছেন।

বাঙালিরা আরবদের হাতে  হরহামেশাই নির্যাতন হচ্ছেন,হচ্ছেনা এমন দিন খুবই কম এর মধ্য থেকে, গত ৩০ এপ্রিল ফ্রান্সের ক্যাতসীমা মেট্রোর সামনে চার পাঁজন আরাবিয়ান একজন বাঙ্গালিকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর তারা তাকে রাস্তায় ফেলে মানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়ে চলে যায়। জানা যায়, ঘটনাস্থলের পাশেই ৫০ থেকে ৬০ জন বাঙ্গালী ছিলেন। সোনার বাংলা রেস্টুরেন্ট এর সামনে তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাস্থল দেখছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার করেননি। কিংবা কারো পক্ষ থেকে কোনো সাহায্যও করা হয়নি। বরং সবাই সেলফি তোলায় ব্যস্ত ছিলো। কাপুরুষের মতো সবাই শুধু তাকিয়ে ছিলো। কেউ একজন সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। আসলে বাঙ্গালী এমন জাতি যারা অন্য বাঙ্গালির ক্ষতি ছাড়া উপকার করতে জানে না এটাই বাস্তব।

দেশের মায়া ছেড়ে প্রবাসে এসেও কমিউনিটি করতে জানে তারা এটি ভালো কথা। কিন্তু বিপদে এগিয়ে আসতে জানে না স্বার্থনেশি নেতারা। প্রবাসে এসেও কেউ আওয়ামিলীগ,কেউ বিএনপি,কেউ জামায়াতে ইসলাম, কেউ আবার খেলাফত মজলিস,ইত্যাদি ইত্যাদি করেন। কিন্তু কারো বিপদে আসতে পারে না এই চাপাবাজ খেতারা। নেতামিতে বেস্ত কিন্তু সত্যিকারার্থে বিপদে পাশে কাউকে পাওয়া যায় না।

তাদেরকে পাওয়া যাবে ক্যাত সীমা একটি রেস্টুরেন্টে কয়েকজন মিলে পিছনে একটি ব্যানার টানিয়ে একটি প্রোগ্রাম করা। প্রোগ্রাম শেষে  কিছু হলুদ মার্কা সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে নিউজ করা এছাড়া কারো বিপদে এগিয়ে আসে না তারা। কমিউনিটি নেতাদেরকে বাঙ্গালীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের সাথে দেখা যায় কিছু চামচিকাও নতুন কোন বাঙ্গালীকে দেখলে এগিয়ে এসে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, ভাই আপনি বাঙ্গালী? হ্যাঁ ভাই উনি হচ্ছেন আমাদের বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি আর উনি হচ্ছেন সেক্রেটারি ইত্যাদি ইত্যাদি এই হচ্ছে চামচিকার কাজ।

ফ্রান্সে শ্রীলঙ্কান কিংবা পাকিস্তানিদের মাঝে যে একটা পরস্পরের সহমর্মিতা আছে। একজনের বিপদে অন্যজন এগিয়ে আসে। তাই তাদের উপর কখনো কোনো আরবিয়ান হামলা করে না। কারণ আরবিয়ানরা ওদের ভয় পায়? ওদের কিছু করলে সবাই মিলে প্রতিরোধ করে। প্রতিরোধ করেছে এমন  চিত্র অনেকেই দেখেছেন।

বাঙ্গালিদের এ ধরনের কমিউনিটি করার কী মানে? যারা নিজেদের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারে না? যারা কারো প্রয়োজনে এগিয়ে আসে না? যদি তারা বাঙ্গালিদের সাহায্য করতে না পারে তাহলে বাঙ্গালিদের কমিউনিটি নাম রাখার কি দরকার। ফ্রান্সে বসবাসরত অনেকে মনে করেন এসব কমিউনিটি ভেঙ্গে ফেলা দরকার।

নতুন কমিউনিটি করে সবাই মিলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এমনটা মনে করেন ফ্রান্সের বসবাসরত বাঙালিরা। একজনের বিপদে অন্যজন এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে পরস্পরের মাঝে সম্প্রীতি ও সৌহার্দতা বাড়বে। বাঙ্গালিরা রক্ষা পাবে যে কোনো ধরনের হামলা মামলা কিংবা বৈরিতা থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :
দূর প্রবাস এর আরও খবর

আরো পড়ুন
চামড়ার বাজারে ধস ও বাংলাদেশের সিন্ডিকেট উপাখ্যান

চামড়ার বাজারে ধস ও বাংলাদেশের সিন্ডিকেট উপাখ্যান

বাংলাদেশের তৃতীয় প্রধান গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পণ্য কাঁচা চামড়ার বাজার আজ…

দক্ষিণ ছাতকের অবহেলিত মানুষের কিছু দাবি

দক্ষিণ ছাতকের অবহেলিত মানুষের কিছু দাবি

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ভাত গাঁও ইউনিয়নের অবহেলিত কয়েকটি এলাকার…

শোক দিবস উপল‌ক্ষ্যে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা অনূ‌ষ্টিত

শোক দিবস উপল‌ক্ষ্যে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা অনূ‌ষ্টিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ই আগস্ট বৃহস্পতিবার…

ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিকও হিন্দু

ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিকও হিন্দু

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য…

বাহুবলে হামিদিয়া হলিচাইল্ড একাডেমিতে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন

বাহুবলে হামিদিয়া হলিচাইল্ড একাডেমিতে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন

সারা দেশের ন্যায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হামিদ নগরে অবস্থিত,হামিদিয়া হলি…

নয়ন বন্ডের বাসায় চুরি!

নয়ন বন্ডের বাসায় চুরি!

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’…

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি, নিহত ৮

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি, নিহত ৮

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে…

ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ফের গণধর্ষণ

ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ফের গণধর্ষণ

ধর্ষণচেষ্টার মামলা তুলে না নেওয়ায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাবা-মাকে মারধর…