রাগিব রব্বানি

প্রকাশিত:
১৪ মে, ২০১৯ ০৭:৩২ পিএম


সম্প্রীতি বাংলাদেশ : জঙ্গিবাদ-বিরোধিতা পরিণত হচ্ছে ইসলাম-বিদ্বেষে


সম্প্রীতি বাংলাদেশ : জঙ্গিবাদ-বিরোধিতা পরিণত হচ্ছে ইসলাম-বিদ্বেষে

সম্প্রতি সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামের একটি এনজিও সংগঠন সন্দেহভাজন জঙ্গিসদস্য সনাক্তকরণের নিয়ামকসমূহ শিরোনামে জাতীয় দৈনিকগুলোতে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। জঙ্গিসদস্য সনাক্তকরণের আলামত হিসেবে এ বিজ্ঞাপনে এমন সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি ঘটিয়েছে, যা এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দৈনন্দিন আমল ও বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ।

এর মধ্যে অন্যতম ও খতরনাক বিষয়গুলো হলো—১. ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি। ২. গণতন্ত্রকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করা। ইসলামি শাসনব্যবস্থা, শরিয়াহ আইন ও খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য অতিমাত্রায় আগ্রহ প্রকাশ। ৩. হঠাৎ করে দাড়ি রাখা ও টাখনুর ওপর কাপড় পরিধান করা। ৪. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিয়ে, গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান-বাজনাসহ পারিবারিক অনুষ্ঠান হতে নিজেকে গুটিয়ে রাখা এবং শিরক / বিদাত বলে যুক্তি প্রদান করা। ৫. জিহাদ সংক্রান্ত পড়াশোনা (গাজওয়াতুল হিন্দ / খোরাসান / শাম সংক্রান্ত বিভিন্ন রেফারেন্স, ইমাম মাহদী ও দাজ্জালের আগমন ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশে চলমান মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অতিমাত্রায় উদ্বিগ্ন থাকা। ৬. মিলাদ, শবে বরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াসহ প্রচলিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা। ৭. ধর্মচর্চার পাশাপাশি শরীর চর্চা ও ক্যাম্পিংয়ের মতো বিষয়ে আগ্রহী হওয়া।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের এ বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর গতকাল সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ থেকে নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা বলছেন, সম্প্রীতি বাংলাদেশ জঙ্গি ইন্ডিকেটর হিসেবে যে বিষয়গুলোর উল্লেখ করেছে, তা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বাভাবিক ও নিত্তনৈমিত্তিক কাজের অংশ। এমন সব বিষয় জঙ্গি ইন্ডিকেটর হিসেবে উল্লেখ করা প্রকারান্তরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আঘাত করারই নামান্তর।

আলেম মিডিয়া-ব্যক্তিত্ব ও ইসলাম টাইমস সম্পাদক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ তাঁর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সম্প্রীতি বাংলাদেশ জঙ্গিসদস্য সনাক্তকরণের নিয়ামক হিসেবে এমন কতগুলো বিষয় উল্লেখ করেছে, যা এ দেশের মর্যাদাবান মুসলমানদের খুব গায়ে লেগেছে এবং তাঁরা কষ্ট পেয়েছেন।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ের সঙ্গে ইসলামের জীবন যাপন এবং সুন্নাহ জড়িত। মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের এসব বিষয়াবলিকে জঙ্গি সনাক্তকরণের নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করা এ দেশের ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অপমানজনক। প্র্যাকটিসিং মুসলিম যাঁরা, তাঁরা সকলেই অপমানিতবোধ করছেন এই কাজে।

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ আরও বলেন, সম্প্রীতি বাংলাদেশের নেতৃত্বে যিনি আছেন, পীযূষ বন্দোপাদ্যায়, তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তবে অবশ্যই তিনি এ দেশের সম্মানিত ও সচেতন একজন নাগরিক। একজন সচেতন নাগরিক হয়ে তিনি কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রাত্যহিক কাজ ও জীবনযাপনের অংশকে জঙ্গি সনাক্তকরণের নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করতে পারলেন, আমাদের আশ্চর্য লাগে। এবং সন্দেহেরও উদ্রেক হয়, জঙ্গিবাদ-বিরোধিতার নামে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকারান্তরে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে না তো?

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, আমরা জানি, দেখেছি এবং এই কথাটা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিগত দিনগুলোতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য বেড়েছে ভারত উপমহাদেশে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক—নানাভাবে এরা তাদের উগ্রতার বিস্তার ঘটাচ্ছে। পাশাপাশি মুসলিম কালচার ও ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ, আক্রমণ ও হেয় করারও চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দল, ব্যক্তি ও সংগঠনকে এ জন্য ব্যবহার করছে তারা। বাংলাদেশেও এমন তৎপরতা জোরদারভাবে আছে বলে একটা কথা চালু আছে। ইসলাম ও মুসলামনদের প্রাত্যহিক অপরিহার্য কাজগুলোকে জঙ্গিবাদের পরিচায়ক উল্লেখ করে পীযূষ গং কি আদতে উগ্র হিন্দুত্ববাদেরওই বিস্তার ঘটাতে চাইছেন বাংলাদেশে? আমাদের সন্দেহ জাগে।

সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও তাদের জঙ্গি ইন্ডিকেটর পত্র নিয়ে কথা বলেছিলাম চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আলেম ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইনের সঙ্গে। ড. খালেদ বলেন, জঙ্গিবাদের বিরোধিতা আমরাও করি। জঙ্গিবাদ সম্পর্কে এ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ওলামায়ে কেরাম যতটা সচেতনতা তৈরি করেছেন এবং করছেন আর কেউ তার সিকিভাগও করতে পারেননি। প্রচলিত জঙ্গিবাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। ওলামায়ে কেরাম বিভিন্নভাবে বহু বার তা স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু একশ্রেণির লোক ইসলাম ও প্র্যাক্টিসিং মুসলমানদেরকে জঙ্গি ও জঙ্গিবাদী প্রমাণে সর্বদা মরিয়া হয়ে আছে। জঙ্গিবাদ-বিরোধিতার নামে এরা ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে আমাদের দেশে। এদের জঙ্গিবাদ-বিরোধিতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট। এদের এই ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিশেষত পীযূষের নেতৃত্বে সম্প্রীতি বাংলাদেশ যে জঙ্গি সনাক্তকরণের নিয়ামক প্রকাশ করেছে, এর বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরামকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। বক্তব্য-বিবৃতি এবং সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে তাদের এ জঙ্গিবাদ-বিরোধিতার অসারতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন ও ওয়াকিবহাল করতে হবে।

উৎস : ফাতেহ 


আপনার মতামত লিখুন :
বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর

আরো পড়ুন
মদিনা মার্কেটের কেয়ারটেকার আলীর কাছে মার্কেট ব্যবসায়ীরা জিম্মি

মদিনা মার্কেটের কেয়ারটেকার আলীর কাছে মার্কেট ব্যবসায়ীরা জিম্মি

সিলেট জেলার জালালাবাদ থানা দিন টুকুর বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও এলাকার…

বাহুবলের ছাত্রী বৃষ্টিকে নিয়ে গর্বিত গৃহ শিক্ষক মামুন

বাহুবলের ছাত্রী বৃষ্টিকে নিয়ে গর্বিত গৃহ শিক্ষক মামুন

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আমি যখন সৃজন জুনিয়র…

মদিনা মার্কেট মালিক ম্যানশনের কেয়ারটেকার আলীর আসল মুখোশ

মদিনা মার্কেট মালিক ম্যানশনের কেয়ারটেকার আলীর আসল মুখোশ

সিলেট জেলার জালালাবাদ থানা দিন টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও এলাকার…

বাহুবলে প্রভাবশালী জিলুলের ছেলেরা কুটিকে জমিনে কুপিয়ে আহত

বাহুবলে প্রভাবশালী জিলুলের ছেলেরা কুটিকে জমিনে কুপিয়ে আহত

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার শংকরপুর গ্রামের বহু অপকর্মের হুতা জিলু…

বাহুবলে কাজের সমাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে পিচঢালা,অনিয়মের জন্য দায়ী কে?

বাহুবলে কাজের সমাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে পিচঢালা,অনিয়মের জন্য দায়ী কে?

হবিগঞ্জের বাহুবলে পাকা রাস্তার কাজ সমাপ্তির এক সপ্তাহ মধ্যেই পাকা…

বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বন্ধ

বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বন্ধ

দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এবার পাকিস্তানিদের…

আমান গ্রুপের ২ কর্মকর্তা আটক, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আমান গ্রুপের ২ কর্মকর্তা আটক, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মেঘনা নদী ভরাট করে গড়ে তোলা আব্দুল আমান গ্রুপের অবৈধ…

ফ্রান্সে সার্সেল বোমা বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ১৩

ফ্রান্সে সার্সেল বোমা বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ১৩

ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিয়নের একটি ব্যস্ততম সড়কে…