টাইম টিউন ডেস্ক
প্রকাশিত:
১১ মে, ২০১৯ ০৭:৫২ পিএম
আপডেট:
১১ মে, ২০১৯ ১০:৫৯ পিএম


সিলেট উইমেন্স মেডিক্যালে ছাত্রলীগের আচরণে রোগীর স্বজনরা তৃপ্ত-আনন্দিত!


সিলেট উইমেন্স মেডিক্যালে ছাত্রলীগের আচরণে রোগীর স্বজনরা তৃপ্ত-আনন্দিত!

সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে ছাত্রলীগের আচরণ দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন! অনেকে মহিলা ডাক্তারের কান্নাজড়িত স্ট্যাটাস পড়ে ছাত্রলীগের ঐ ভাইদের চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করছেন।টাইম টিউন কে ইকবাল হাসান জাহিদ বলেন আমি  মোটেও বিস্মিত না। বরং আমি রোগীপক্ষের ভাইদের একদিক থেকে ধন্যবাদ জানাই।

কারণ: একজন রোগীকে নিয়ে যখন তার অভিভাবক বা স্বজন হাসপাতালে ভর্তি হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার সেন্স অন্যরকম থাকে। জ্ঞানবুদ্ধি অনেকটাই অকেজো হয়ে যায়। একদিকে থাকে রোগী বাঁচানোর চিন্তা, অন্যদিকে হসপিটালের সিস্টেম মেইন্টেন্স এর গ্যাদারিং।

জাহিদ নিজেও কয়েকবার এখানের ডাক্তারদের হিংস্র আচরণ আর উদাসীনতা ও নির্মমতার শিকার হয়েছেন। একটা কথা মনে রাখা দরকার, এখানের খরচাপাতি কম হওয়ার সাথে উঠতি বয়সী ডাক্তার বা স্টাফদের অসংলগ্ন ও রূঢ় ব্যবহারের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ ব্যয় কম হওয়ার ক্রেডিট পরিচালনাপর্ষদের ভালো পলিসির। আর ইন্টার্ন-ডাক্তার কিংবা স্টাফদের অভদ্রতা বা হিংস্রতার দায়ভার শিক্ষাদীক্ষা বা হসপিটাল মেনেজম্যান্টের।

উইমেন্স থেকে ইকবাল হাসান জাহিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

ঘটনা-১. আমার ছেলেকে নিয়ে ভর্তি হই উইমেন্সে গত কয়বছর আগে। ৬/৭টি টেস্ট রয়েছে। একটা টেস্টের রিপোর্টের জন্য ডাক্তার এসে ঝাড়ি দিয়ে বললেন, -আপনারা এখনও এই টেস্ট করাননি?

-আমার ছোট ভাই বললো, জি সব টেস্টই আমরা করিয়েছি।

-ডাক্তার বললেন, তাইলে এই টেস্টের রিপোর্ট কই?

-সে বললো, সবইতো এখানে থাকার কথা। ডাক্তার রিপোর্ট না পেয়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলেন না। চলে গেলেন।

আমাকে ফোন করা হলো। আমি বললাম, এই টেস্ট আমি নিজে করিয়েছি। তোমরা দাঁড়াও আমি অসাছি। অফিস রেখে আমি উইমেন্স যাই। গিয়ে নার্স কাউন্টারে বিনয়ের সাথে বলি এই টেস্ট আমি করিয়েছি। আপনারা ফাইলের সাথে রাখেননি মনে হয়, বা কোথাও হারিয়েছেন, একটু দেখেন প্লিজ। তারা আমাক উল্টা ঝাড়ি দেয়। আমি সব সময়ের একটু ঘাড়ত্যাড়া। আমি তাদের থেকে আশি সেন্টিমিটার জোর গলায় ঝাড়ি দিয়ে বললাম এই টেস্ট আমি নিজে করিয়েছি। প্রয়োজনে নিচের কাউন্টার থেকে প্রমাণ আনবো। তোমরা তাড়াতাড়ি এটা বের করো। নাইলে আমি মামলা করব। আমার রাগারাগি দেখে অনেকেই জড়ো হয়। তারা খুজাখুজি শুরু করে। অবশেষে তাদের কাউন্টারের নিচে থেকে আমার ছেলের টেস্টের রিপোর্ট খুজে পায়।

ঘটনা-২ এর পরের দিনই, আমার ছেলের পাশের সিটে একটা ছেলে। স্বাভাবিক অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হয়েছে। সারাদিন হাটাহাটি রংঢং করেছে বাচ্চা শিশুটি। সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটি অচমকা অচেতন অবশ হয়ে পড়েছে। ডাক্তার ডাকা হলো। রাত ৮টার দিকে ছেলের মা’কে ডাক্তার এসে বলে দিয়েছেন- দুই ঘন্টার ভিতর ৩ ব্যাগ রক্ত না হলে বাচ্চাকে বাঁচানো যাবে না। তার ব্লাড ক্যান্সার হয়ে গেছে।

আজীব ব্যাপার। বাচ্চার মা, আর সাথে থাকা চাচি চিৎকার দিয়ে শুরু করেন কান্না। আমরা দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই তারা বলেন বাচ্চার ক্যান্সার হয়েছে ডাক্তার বলেছেন। আমরা এখন কি করব। বলেছেন ৩ ব্যাগ রক্ত না হলে বাচ্চাকে বাঁচানো যাবে না।

আমি নিজেই স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। কিছু সময় পরে বাচ্চার বাবা এলেন। এলেন আমার আরো এক পরিচিত ভাই। সিলেটের কাজির বাজার মাদরাসার দীর্ঘ দিনের কর্মকর্তা কয়েস ভাই। বললেন জাহিদ ভাই সব শুনেছি। আপনি কিছু রক্তের ব্যবস্থা করেন আমিও করব।

আমি সিলেটের করিম উল্লাহ মার্কেটে ফোন দিয়ে ২ ব্যগ রক্তের ব্যবস্থা করি। তারা এক ব্যগের ব্যবস্থা করেন। রক্তের জন্য কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩জন হাজির হন। আমরা কাউন্টারে গিয়ে ৩ ব্যাগ রক্তের জন্য ১হাজার টাকা করে ৩ হাজার টাকা জমা দেই। কিন্তু পরক্ষণেই ডাক্তার জানান, ৩ ব্যাগ লাগবে না। আপাতত ১ ব্যাগ হলেই চলবে। আমার মেজাজ আবার হলো খারাপ। তবুও ধৈর্য্য ধরে কাউন্টারে যাই, গিলে বলি আমাদের ডাক্তার বলেছেন, ১ ব্যাগ রক্ত লাগবে। তাই বাকী দুই ব্যাগের ক্রসমেচিংয়ের টাকা ২ হাজার ফেরত দিয়ে দেন।

কিন্তু কাউন্টার থেকে তারা জানিয়ে দেয়, রক্ত না দিলেও এই টাকা ফেরত দেয়া যাবে না। উপস্থিত আরো কয়েকজন ছিলো আমার সাথে। তারা অনেক রাগরাগি শুরু করে। এমনকি জুতো হাতে নিয়ে পেঠানোর ভয় দেখায়। তোপের মুখে টাকা ফেরত দেয়।

-এখানে দুইটা বিষয়। প্রথম কথা, সারাদিন প্রাণোচ্ছল একটা বাচ্চা শিশুর যেই রোগই হোক না কেন, এভাবে বাচ্চার মা’র কাছে কী হুট করে ক্যান্সারের সংবাদ দেয়া ডাক্তারের জন্য উচিত?

-দুই নাম্বার কথা হলো, ৩ব্যাগ রক্ত না হলে রোগীকে বাচানো যাবে না, এই বলে আমাদেরকে চাপ ক্রিয়েট করে রক্তদাতাদের এনে টাকা জমা দিয়ে আবার কেমনে ১ ব্যাগ হলেই রোগীকে বাঁচানো যায়। এই স্বেচ্ছাচারীতার মানে কী?

-তিন নাম্বার- ১ ব্যাগ ক্রসমেচিং হবে। তাহলে কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অথর্বরা বাকী টাকা ফেরত দিতে সমস্যা কীসের ছিলো?

-চার নাম্বার কথা হলো- এই রোগীকেই আবার সকাল ৭টার আগে আগে ওসমান মেডিক্যাল হাসপাতালে রেফার না করে ঢাকায় রেফার করার মানেকী?

ঘটনা-৩. আমি বন্ধু ফাহিম বদরুল হাসানের বিয়েতে যাব। গাড়িতে করে আমরা টিলাগড় পর্যন্ত পৌছে গেছি। হঠাৎ ফোন এলো। আম্মার হাই প্রেসার। ২০০ এর কাছাকাছি। ডাক্তার বলেছেন, ইমার্জেন্সি ভর্তি করতে হবে। ভাইকে বললাম- উইমেন্স মেডিক্যাল নিয়ে আয়। আমি বিয়েতে না গিয়েই গেলাম হাসপতালে। ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শুরু করে দেয়ার জন্য মিনতি করলাম ইন্টার্নদের। এক ইন্টার্ন ডাক্তার বলে উঠলেন- এত তাড়া করছো কেন? আমরা কী তোমার কথায় উঠব বসব? আমি বললাম, ভাই তুমি-তামি করে ব্যবহার করছেন কেন? হাই প্রেসারের রোগী। ডাক্তার বলেছেন যে কোনো সময় স্ট্রোক হতে পারে। তিনি বললেন, যে ডাক্তার বলেছে তার কাছে যাও। এখানে এলে কেন?

আমি এই ইন্টার্ন ডাক্তারের ব্যবহারে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ১৯ বছর ধরে সিলেটের সকল শ্রেণির মানুষের সাথে চলফেরা। বন্দর বাজারের কাষ্টঘরের সুইপার পল্লির লোকেরাও আমার সাথে এমন আচরণ কোনদিন করেনি।

আমি ডাক্তারের আচরণ ক্ষুদ্ধ হয়ে যাই। ফান করি আমার বন্ধুবান্ধবদের। জড়ো হতে থাকেন রোগির অভিভাবকরাও। নার্সদের কেউ কেউ বিষয়টা আচ করতে পেরে একজন মহিলা ডাক্তার এনে আম্মার চিকিৎসা শুরু করেন। তবে এরই মাঝে প্রায় ২ ঘন্টা অতিবাহতি হয়ে যায়। একদিকে চিকিৎসা শুরু না হওয়ার ভয়। অন্যদিকে আমার রাগারাগির আওয়াজ শুনলে আম্মার প্রেসার আরো বেশি বেড়ে যাবার ভয়।

এই হলো উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের ব্যবস্থাপনা।

আরো কিছু ঘটনা আছে। যা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে বলা সম্ভব নয়।

পরিশেষে আমি কর্তৃপক্ষকে বলব, আপনাদেরকে ধন্যবাদ দেব, কারণ স্বল্পমূল্যে আপনারা চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিন্তু আপনাদের নতুন উঠতি বয়সী বদমেজাজী ও হিংস্র মেজাজী ডাক্তারদের শিক্ষার সাথে কিছু দীক্ষারও ব্যবস্থা রাখিয়েন। আর স্টাফদের আরো সহমর্মী ও মানবিক হওয়ার শিক্ষা দিয়েন।

সাংবাদিক ও লেখক: ইকবাল হাসান জাহিদ 


আপনার মতামত লিখুন :
আরো পড়ুন
মদিনা মার্কেটের কেয়ারটেকার আলীর কাছে মার্কেট ব্যবসায়ীরা জিম্মি

মদিনা মার্কেটের কেয়ারটেকার আলীর কাছে মার্কেট ব্যবসায়ীরা জিম্মি

সিলেট জেলার জালালাবাদ থানা দিন টুকুর বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও এলাকার…

বাহুবলের ছাত্রী বৃষ্টিকে নিয়ে গর্বিত গৃহ শিক্ষক মামুন

বাহুবলের ছাত্রী বৃষ্টিকে নিয়ে গর্বিত গৃহ শিক্ষক মামুন

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আমি যখন সৃজন জুনিয়র…

মদিনা মার্কেট মালিক ম্যানশনের কেয়ারটেকার আলীর আসল মুখোশ

মদিনা মার্কেট মালিক ম্যানশনের কেয়ারটেকার আলীর আসল মুখোশ

সিলেট জেলার জালালাবাদ থানা দিন টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও এলাকার…

বাহুবলে কাজের সমাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে পিচঢালা,অনিয়মের জন্য দায়ী কে?

বাহুবলে কাজের সমাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে পিচঢালা,অনিয়মের জন্য দায়ী কে?

হবিগঞ্জের বাহুবলে পাকা রাস্তার কাজ সমাপ্তির এক সপ্তাহ মধ্যেই পাকা…

বাহুবলে প্রভাবশালী জিলুলের ছেলেরা কুটিকে জমিনে কুপিয়ে আহত

বাহুবলে প্রভাবশালী জিলুলের ছেলেরা কুটিকে জমিনে কুপিয়ে আহত

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার শংকরপুর গ্রামের বহু অপকর্মের হুতা জিলু…

বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বন্ধ

বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বন্ধ

দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এবার পাকিস্তানিদের…

আমান গ্রুপের ২ কর্মকর্তা আটক, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আমান গ্রুপের ২ কর্মকর্তা আটক, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মেঘনা নদী ভরাট করে গড়ে তোলা আব্দুল আমান গ্রুপের অবৈধ…

ফ্রান্সে সার্সেল বোমা বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ১৩

ফ্রান্সে সার্সেল বোমা বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ১৩

ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিয়নের একটি ব্যস্ততম সড়কে…