মোস্তফা ওয়াদুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত:
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪:২৭ পিএম
আপডেট:
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪:৫২ পিএম


ড. মুশতাক আহমদ

রাসূল সা. দুমাস পূর্ব থেকে রোজার প্রস্তুতি নিতেন


রাসূল সা. দুমাস পূর্ব থেকে রোজার প্রস্তুতি নিতেন

রাসূল সা. রমজান শুরু হওয়ার অন্তত দুমাস পূর্ব থেকে রোজার প্রস্তুতি নিতেন। শুধু নিজে প্রস্তুতি নিতেন এমন নয়। নিজের পরিবারকে প্রস্তুত করতেন। সমাজকে প্রস্তুত করতেন। নামাজ,  দোয়া ও মজলিস সব জায়গায় রমজানের একটা আবহ, একটা পরিবেশ তৈরি করতেন। রমজানের গুরুত্ব আর মাহাত্ম সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেন। আর রজব মাস থেকেই বেশি বেশি এ দোয়া পাঠ করতেন। 
اللهم بارك لنا في رجب وشعبان . وبلغنا رمضان
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাদের হায়াতকে রজব ও শাবান পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দাও। আর আমাদেরকে রমজান নসীব করো। 
এই দোয়া নিজে বেশি বেশি পড়তেন। আর অন্যদেরকে পড়ার জন্য তালীম দিতেন।

আর সাহাবায়ে কেরাম রা. কে বলতেন, রোজা আসতেছে। নাজাতের মাস আসতেছে। সবাই বেশি করে রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করো। মোটকথা একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেন।

রোজার মাসের প্রস্তুতি 

সেই ভালোভাবে রোজার মাসের প্রস্তুতি নিতে পারবে যার ভিতরে রমজান মাসের বরকত লাভের পিপাসা থাকে। পিপাসা না থাকলে এ বরকত আহরণ করতে পারবে না। নবী করীম সা. রমজানের বরকত সবার আগে নিজে লাভ করতে চাইতেন। তারপর সাহাবায়ে কেরামকে আহবান করতেন।

আজকেও যারা রমজানের পূর্ণ বরকত আহরণ করতে চায় তাদের মনে একটা পিপাসা থাকতে হবে। একটা প্লানিং থাকতে হবে। মনে মনে চিন্তা করতে হবে রমজান আসতেছে। রমজান উপলক্ষে কী কী কাজ আমি করবো। কোন কাজে বেশি নেকী লাভ করা যাবে। আগে থেকে এসব পরিকল্পনা করে রাখতে হবে। রমজান মাসে নিজেকে প্রলুব্দ বানানো। আমলের নিয়তে নিজের ভিতরে একটা পরিবর্তন আনতে হবে। 

সাহাবায়ে কেরাম রা. এর অভ্যাস ছিলো, প্রত্যেকটা বিষয়ের ফাজায়েলের উপরে নিজেকে সংযোগ রাখা। জড়িয়ে রাখা। ফজিলতের কোনো বিষয়কে কখনো তাঁরা ছাড়তেন না। ফজিলত সম্পর্কে সব সময় হৃদয়ে একটা আগ্রহ রাখতেন।

সাহাবায়ে কেরাম রা. হাদীসের মাঝে যে সকল ফাজায়েলগুলো আসছে সেসব নিজেদের মাঝে আলোচনা করতেন। পরস্পরে মুযাকারা করতেন।

এখানে মোট তিনটি বিষয়। 

এক. সাধারণ রোজা। 
রোজা হলো আবহমানকালীন ধর্মীয় একটি অংশ। পৃথিবীতে যতদিন থেকে ধর্ম পালনের রেওয়াজ চলে আসছে। ততদিন থেকে রোজাও আছে। অর্থাৎ রোজা হলো ধর্মের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

দুই. রমজানের রোজা।
এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
كتب عليكم الصيام كما كتب  
على الذين من قبلكم لعلكم تتقون. 
অর্থ : তোমাদের উপর রমজানের রোজাকে ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিলো। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। 

রমজানের রোজার ফজিলতের ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
الصوم لي وانا اجزي به. 
অর্থ : রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর প্রতিদান দিবো।
অর্থাৎ রোজা এমন একটি আমল। যা আল্লাহর অতি নিকটে নিয়ে যায়।  রোজার দ্বারা বান্দাহ আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করে।

তিন. রমজানের প্রস্তুতিমূলক প্লানিং। 

সাহাবায়ে কেরামের মাঝে রমজান এলে রোজার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা লেগে যেতো। কারণ রোজার ফজিলতের প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিলো তাদের অন্তরে। রোজার প্রভাব এমনভাবে বিস্তৃত হয়েছিলো যে, হযরত আবু উমামা রা. সারাবছরই রোজা রাখতেন। রাসূল সা. খুব জবরদস্তি করলেন, 
বললেন, আবু উমামা! তুমি সারাবছর রোজা রেখো না। তখন আবু উমামা রা. বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি পারি। আর এ নিষেধটি ছিলো শাফকাতের নিষেধ। অর্থাৎ এটা উম্মতের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

তারপর থেকে যেদিন আবু উমামার বাড়িতে মেহমান আসতো। সেদিন বাড়িতে চুলা জ্বলতো। মেহমান না এলে তিনি রোজা রাখতেন।

আবার কিছু সাহাবী ছিলেন, যারা অর্ধ বছরের বেশি রোজা রাখতেন।
যেমন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.। আল্লাহর রাসূল তাঁকে নিষেধ করলেন, তুমি সারা বছর রোজা রেখো না। এটা তুমি সামাল দিতে পারবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি টগবগে যুবক। আমি পারবো।

যদিও বৃদ্ধ বয়সে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর খুব আফসোস করে বলেছিলেন। আল্লাহর রাসূল আমাকে নিষেধ করেছিলেন সারাবছর রোজা রাখার ব্যাপারে। আমি সেটা মেনে গেলে অনেক ভালো হতো। বৃদ্ধ বয়সে এসে এত অচল হয়ে যেতাম না। 

রমজান ইবাদাতের মাস। কুরআন নাযিলের মাস। এ মাসে সবার জন্য বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা জরুরি। রাসূল সা. রমজান এলে হযরত জীবরাঈল এর সাথে দাওর করতেন। খুব বেশি তেলাওয়াত করতেন। পুরো সময়টা তেলাওয়াতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।

তারাবি পড়ানো রমজানের বিষয় নয়। বরং তারাবি পড়া হলো রমজানের বিষয়।

তবে রমজানে তারাবি পড়াতে পারা অনেক বড় ভাগ্যের বিষয়। কারণ আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, রমজানে যারা কুরআনুল কারীম তারাবিতে খতম করেন। তাদের হেফজ অনেক ইয়াদ থাকে। সারা বছরের জন্য অনেক বড় অবলম্বন হয়ে যায়। তারাবি ছুটে গেলে ঐ হাফেজ তার হেফজকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারেন না। 

রমজানে যারা হাফেজ নয় তারা তাদের সাধ্যমতো তেলাওয়াত করবে। আর যারা হাফেজ তারা বেশি পরিমাণ তেলাওয়াত করবে।


আপনার মতামত লিখুন :
আরো পড়ুন
মদিনা মার্কেটের কেয়ারটেকার আলীর কাছে মার্কেট ব্যবসায়ীরা জিম্মি

মদিনা মার্কেটের কেয়ারটেকার আলীর কাছে মার্কেট ব্যবসায়ীরা জিম্মি

সিলেট জেলার জালালাবাদ থানা দিন টুকুর বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও এলাকার…

বাহুবলের ছাত্রী বৃষ্টিকে নিয়ে গর্বিত গৃহ শিক্ষক মামুন

বাহুবলের ছাত্রী বৃষ্টিকে নিয়ে গর্বিত গৃহ শিক্ষক মামুন

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আমি যখন সৃজন জুনিয়র…

মদিনা মার্কেট মালিক ম্যানশনের কেয়ারটেকার আলীর আসল মুখোশ

মদিনা মার্কেট মালিক ম্যানশনের কেয়ারটেকার আলীর আসল মুখোশ

সিলেট জেলার জালালাবাদ থানা দিন টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও এলাকার…

বাহুবলে কাজের সমাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে পিচঢালা,অনিয়মের জন্য দায়ী কে?

বাহুবলে কাজের সমাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে পিচঢালা,অনিয়মের জন্য দায়ী কে?

হবিগঞ্জের বাহুবলে পাকা রাস্তার কাজ সমাপ্তির এক সপ্তাহ মধ্যেই পাকা…

বাহুবলে প্রভাবশালী জিলুলের ছেলেরা কুটিকে জমিনে কুপিয়ে আহত

বাহুবলে প্রভাবশালী জিলুলের ছেলেরা কুটিকে জমিনে কুপিয়ে আহত

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার শংকরপুর গ্রামের বহু অপকর্মের হুতা জিলু…

বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বন্ধ

বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বন্ধ

দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এবার পাকিস্তানিদের…

আমান গ্রুপের ২ কর্মকর্তা আটক, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আমান গ্রুপের ২ কর্মকর্তা আটক, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মেঘনা নদী ভরাট করে গড়ে তোলা আব্দুল আমান গ্রুপের অবৈধ…

ফ্রান্সে সার্সেল বোমা বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ১৩

ফ্রান্সে সার্সেল বোমা বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ১৩

ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিয়নের একটি ব্যস্ততম সড়কে…