প্রকাশিত:
০৯ মার্চ, ২০১৯ ০৪:৫৬ পিএম


নারীর অংশগ্রহণ ও বিচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে


নারীর অংশগ্রহণ ও বিচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে

বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ দশকে নারীর অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ক্ষমতায়নও হয়েছে, তবে তা অগ্রগতির সমানুপাতে হয়নি। বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, পুরুষাধিপত্যপ্রসূত হয়রানি ও নিপীড়ন এবং নারীর চলাফেরায় নিরাপত্তার অভাব এখনো প্রকট। লিঙ্গসমতার ধারণা এখনো যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। গত দুই-তিন দশকে একটা পশ্চাত্মুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে মূলত উগ্র ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতির কারণে। এ প্রবণতা শেষ পর্যন্ত নারীমুক্তির অন্তরায়। নারীর জন্য সমমর্যাদায় কর্মে নিযুক্ত হওয়া এবং স্বাধীনভাবে বিচরণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আয়বৈষম্য কমাতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বদল ঘটাতে হবে। তাহলেই নারীর ক্ষমতায়ন, নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► অনাদিকাল থেকে শুনে আসছি নারী অবলা, সমাজব্যবস্থায় নারীকে মূল্যায়ন করা হয় না, দিনের পরিবর্তনে ধীরগতিতে হলেও নারী জেগে উঠছে। সাফল্যের শিখরে আজ নারী। সেই শিখরে অবস্থান করছে বাংলাদেশের নারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান আন্তর্জাতিক বিশ্বে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি পেয়ে গোটা বিশ্বে নারীসমাজকে তুলে ধরেছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, শিক্ষা-সংস্কৃতি—সর্বত্র সরব উপস্থিতি নারীর। সারা বিশ্বে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশের অবস্থান। আজকের দিনে আধুনিক যুগেও নারী চরমভাবে নির্যাতিত, অবহেলিত সমাজের একশ্রেণির মানুষের কাছে। নারী স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। বাংলাদেশের মেয়েরা ক্রীড়াঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। মানসিকতার পরিবর্তন সমাজে, রাষ্ট্রে জরুরি। নারী যেন নিষ্পেষিত না হয়, নারী পাচার করে নারীর ঘৃণ্যতম ব্যবসা চলে, যা আজও চলছেই। নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হোক—পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে নারী পূর্ণ মানবসন্তানের স্বীকৃতি পাক, উদ্ধার হোক তার অধিকার ও মর্যাদা। দিবস পালন নয়, নারীর মর্যাদা রক্ষা করাই হোক আজকের প্রতিজ্ঞা।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► নারীর অগ্রযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। নারীরা নানাভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে নারী আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে করি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► নারীরা যে অনেক এগিয়েছে, তা নানাভাবে বোঝা যায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। নারীরা ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে করি।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সমীক্ষায় বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশ। পোশাকশিল্পের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ৮০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৩২ শতাংশ নারী। অথচ অর্থনীতিতে নারীর যে অবদান গণনায় আসে না, তা জিডিপির ৭৭ থেকে ৮৭ শতাংশ। বিশ্বের বহু দেশের নারী কর্মস্থলের যে আন্তর্জাতিক নীতি, সেই সুফল ভোগ করতে পারে না। জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত ১৯৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদে (সিডও) স্বাক্ষর করেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিকটিকসের গবেষণায়, প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে ৮৭ জন নারী কোনো না কোনোভাবে পরিবারের মধ্যেই নির্যাতিত হচ্ছে। ৮৮ শতাংশ নারী পথেঘাটে কটূক্তির সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, নারীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকা, পরিবারের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ, অফিসে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি, প্রাতিষ্ঠানিক যৌন হয়রানি বন্ধ করা, সব কাজে পুরুষের সহায়তা ও সমর্থন বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীর অগ্রযাত্রার পথ প্রশস্ত হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► নারীর পথচলাকে সামগ্রিক অগ্রযাত্রা থেকে ভিন্ন চোখে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দেশের অর্ধেকই নারী। নারীরা অনেক এগিয়েছে। এ থেকে নারীর অগ্রযাত্রা অনুমান করা যায়। এখন যে জিনিসিটা দরকার—নারীবান্ধব আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা। এটা করতে পারলে আরো ভালো হবে।

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

► সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন না রেখে সরাসরি প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হোক। এতে নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বাড়বে। শিক্ষা, প্রশাসন, পোশাকশিল্প, ডিফেন্স—সব জায়গায় নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

► স্বীকার করতে হবে যে নারীকে বাদ দিয়ে সুষম সমাজের কথা চিন্তা করা যায় না। রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারে নারী যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে গোটা সমাজব্যবস্থার ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নারীকে সমান অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচনা না করার প্রবণতা সমাজ ও দেশকে পেছনের দিকেই ঠেলে দেয়। নারী-পুরুষ কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয়, বরং একে অন্যের পরিপূরক। বাংলাদেশেও অনেক দিন ধরে নারী নেতৃত্ব সরকার পরিচালনা করছে। অনেক ক্ষেত্রে নারী এখনো বৈষম্যের শিকার। নানা কারণে এখনো নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রেও তারা বৈষম্যের শিকার হয়। প্রায়ই যৌন হয়রানির শিকারও হয়। নারীর অধিকারের প্রশ্নে এবং নারী-পুরুষের সমতা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে নারীর সার্বিক নিরাপত্তা ও অধিকার। নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে দেশ এগিয়ে যাক।

শুভ্র ঘোষ

নতুন বাজার, কলকলিয়াপাড়া, মাগুরা।

 

► দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন এখন বেশ আলোচিত, বিশেষ করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী নারী। সব ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা রয়েছে। নারীদের ইসলাম অনেক মর্যাদা দিয়েছে। আবার সব ক্ষেত্রে যদি নারীদের বেশি অধিকার দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে হয়তো পুরুষের কোনো কথা শুনবে না। বাংলাদেশ উচ্চ আদালত ২০০৯ সালে সিডও সনদের আলোকে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া নারীনীতি, মানবপাচারসংক্রান্ত আইন, পর্নোগ্রাফি আইন, শিশুনীতিসহ অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হলেও বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিসহ অনেক ক্ষেত্রেই এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► আমাদের বাংলাদেশের নারীরা আগের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে আছে, আগে যেমন নারীদের অগ্রযাত্রায় অনেক বাধা ছিল, বর্তমানে তেমন আর নেই। তাই মেয়েসন্তান হলেও মা-বাবা এখন আর মন খারাপ করে না, ছেলে-মেয়েকে সমান দৃষ্টিতে দেখে। আমরা মনে করি মেয়েদের ঘরে-বাইরে সমান অবদান রাখতে হবে, বাইরে কাজ করে বলে স্বামী-সন্তানদের প্রতি অবহেলা করলে চলবে না, নারী একজন মা হিসেবে অনেক মর্যাদার অধিকারী, সেই মাকে হতে হবে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তি, যাতে তার মধ্যে যা গুণাবলি আছে তা যেন তার সন্তানদের মধ্যেও আসে। সন্তানরা ছোটবেলা থেকে যদি মায়ের কাছে ভালো শিক্ষা পায় তবে অবশ্যই তারা ভালোভাবে মানুষ হবে। নারী-পুরুষ দুজনের মধ্যে মিল-মমতা থাকলে সংসারও সুখের হয়। তাই বলি নারী-পুরুষ কেউ কারো থেকে কম বা ছোট নয়, তবে নারীরা বর্তমানে দংশনের শিকার হচ্ছে বেশি, পত্রিকার খবরে প্রায় দেখা যায়, তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন। নির্যাতন, দংশন, খুন—এসব বন্ধ করার জন্য কঠোর আইনের ব্যবস্থা করতে হবে, অপরাধীরা যেন শাস্তি পায়।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► বিশ্বের ক্রিকেট ও ফুটবল অঙ্গনে নারীরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। গার্মেন্টশিল্প নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া অচল। অর্থ উপার্জন করে নারীরা সংসারের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। বিশ্ব দরবারে বাড়ছে বাঙালি নারীর কদর। উন্নত জাতি গঠনে নারীরা পুরুষদের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। সর্বোপরি রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক—সব ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। হাসপাতালে নারীরা রোগীর সেবায় দিন-রাত তৎপর, চিকিৎসায়ও বেশ সুনাম অর্জন করেছে। নারীশিক্ষায় বাংলাদেশ অনন্য কিছু লক্ষণ সৃষ্টি করেছে। এত সব সত্ত্বেও বাংলাদেশে হরদম চলছে নারী নির্যাতন। এসব বন্ধে  প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাইফুর রহমান মুন্না

কাছিকাটা, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।

 

► প্রতিবছর নারী দিবস পালিত হলেও এখনো বিভিন্ন দিক দিয়ে নারীরা সমাজে অবহেলিত আছে। নারীদের সম্মান নেই, মূল্যায়নও কম। তাদের বাক্স্বাধীনতায় আঘাত দেখতে পাই; যৌতুক ছাড়া বিয়ে হয় না। যুবতী-বৃদ্ধা কেউ নিরাপদ নয় পথেঘাটে ধর্ষণ থেকে। পশুর নামান্তর কিছু স্বামী নির্যাতন চালাচ্ছে সকাল-সন্ধ্যা। বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হয় অনেক মাকে। অবহেলায় পড়ে আছে অনেক বিধবা নারী। তাই বাংলাদেশ সরকারসহ সব ধর্মপ্রাণ ভাইদের প্রতি এসব বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নুর মুহাম্মদ ওবাইদী 

মীরগঞ্জ, ফেনী।

 

► নারীরা অনেক এগিয়েছে সত্য, আবার তারা নানাভাবে অবহেলিত—এটাও মিথ্যা নয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে সরকারকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

টিটো রহমান

রাধানগর, পাবনা।

 

► নারীরা বর্তমানে নানা সেক্টরে কাজ করছে দক্ষতার সঙ্গে। এই অভিযাত্রাকে আরো এগিয়ে নিতে নারীদের জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► মানবসম্পদের উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত পুরুষরা, নারীরাও। তাই নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়নের কথা চিন্তা করা বোকার স্বর্গে বাস করা ছাড়া কিছুই নয়। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়ে গেছে এবং সেই উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরো বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রামীণ নারীরা শহরের তুলনায় পিছিয়ে আছে। শহরের তুলনায় গ্রামে নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে বেশি প্রতিবন্ধকতা বিরাজমান।  সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকেও গ্রাম অনেক পিছিয়ে রয়েছে। মেয়ে ও ছেলেশিশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের পূর্ণ ব্যবস্থা করতে হবে। মেয়েরা যেন স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়; বরং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলার চেষ্টা বৃদ্ধি করতে হবে। এ ব্যাপারে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আরো উন্নত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► পুরুষতান্ত্রিক জড়তা থেকে মানসিকভাবে বেরিয়ে আসবে মানুষ, এটাই আমার প্রথম চাওয়া। বিচরণের ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে নারীর সমানভাবে বিচরণ করা, আগের মহামানবরা নানাভাবে উত্থাপন করেছেন। নারীদের প্রেরণা দেওয়া ও সহযোগিতা করা জরুরি। তা না হলে নারী দিবস পালন অর্থহীন।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে লিঙ্গসমতা আনা এবং সেবাগুলোকে নারীবান্ধব করে তুলতে সরকার ‘জেন্ডার ইক্যুইটি অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৪-২০২৪’ প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো, যেমন কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জেলা হাসপাতালগুলোকে নারীবান্ধব করতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

ডা. ওয়াহিদুল ইসলাম

উত্তরা, ঢাকা।

 

► সব ক্ষেত্রেই নারীরা কমবেশি এগিয়েছে। সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে পোশাকশিল্প খাতে। শিক্ষা খাতেও নারীরা এগিয়েছে—অনেকেই বলে এ কথা। আবার অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে রয়েছে নিজেদের কারণে। নারীদের চিন্তা ও কর্মে দক্ষতা বাড়াতে হবে। যারা পর্দার আড়ালে থাকত, তারা ঘর থেকে বেরিয়ে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। নারী-পুরুষ কাজে ও চিন্তায় সমান তালে এগিয়ে চলুক, এটাই আমাদের আশা।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে সত্য; কিন্তু তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার অনেক নিচে। শুধু তাই নয়, নারী নির্যাতন ও নারীর বঞ্চনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়নি। দেশের নারীসমাজ এখনো পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতন এবং বঞ্চনার শিকার। শিল্পক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের বঞ্চনা আলোচিত বিষয়। যৌতুক প্রথা, বাল্যবিয়ে, ধর্মীয় কুসংস্কার, পরিবারে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের আধিপত্য প্রভৃতি নারী অগ্রগতির পথে বড় বাধা। এসব অতিক্রম করার নিরন্তর চেষ্টা চলছে। সামাজিক চিত্র বদলে ফেলার এখনো অনেক বাকি। সরকার সিডও সনদসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক নীতি ও সনদে স্বাক্ষর করেছে। তার পরও কেন পিছিয়ে থাকবে নারীরা? নারীর আরো উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর তা বাস্তবায়নে প্রত্যয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► নারী মমতাময়ী, নারী স্বামী-সন্তান-সংসারের প্রতি যত্নশীল। বলা যায়, নারীর কারণেই একটি ঘর একটি আশ্রয়ে পরিণত হয়। তাই তাকে অবজ্ঞা করা যায় না; করা উচিত নয়। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে সক্ষম। ঘরে-বাইরে তাদের অনেক অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে; কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। তাদের চলাফেরায় নিরাপত্তা নেই। নারীকে মর্যাদা দিই; তাদের ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাশী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

► কর্মক্ষেত্রের প্রায় সব বিভাগেই নারীরা এগিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। কিন্তু নারীর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও তুলনামূলক হারে ক্ষমতায়ন হয়নি দেশে নারী নেতৃত্ব থাকার পরও। পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত রয়েছে। এ মানসিকতা বদলে একটি মেয়েকে অধিকারবোধের দিক থেকে একটি ছেলের মতোই বড় করা উচিত। বাল্যবিয়ে বন্ধ করা উচিত। মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য সরকারের আরো উদ্যোগ নেওয়া দরকার। চাকরিতে ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কোটা বাড়ানো দরকার।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► দেশে বিভিন্ন খাতে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। অফিস-আদালত, ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তাদের কর্মদক্ষতাও বাড়ছে। কিন্তু এ কথাও ঠিক, তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসা উচিত।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► সমাজের সব স্তরে ও পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ ও অগ্রযাত্রা এগিয়ে চলেছে। তা আরো বাড়াতে হবে। বিশেষ করে নারী বিচারক বাড়াতে হবে। 

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► নারীরা নানাভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবারে ও সমাজে তারা উন্নতি করছে। এখন সার্বিকভাবে দায়িত্বশীল নারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।


আপনার মতামত লিখুন :
মতামত এর আরও খবর

আরো পড়ুন
চামড়ার বাজারে ধস ও বাংলাদেশের সিন্ডিকেট উপাখ্যান

চামড়ার বাজারে ধস ও বাংলাদেশের সিন্ডিকেট উপাখ্যান

বাংলাদেশের তৃতীয় প্রধান গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পণ্য কাঁচা চামড়ার বাজার আজ…

দক্ষিণ ছাতকের অবহেলিত মানুষের কিছু দাবি

দক্ষিণ ছাতকের অবহেলিত মানুষের কিছু দাবি

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ভাত গাঁও ইউনিয়নের অবহেলিত কয়েকটি এলাকার…

শোক দিবস উপল‌ক্ষ্যে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা অনূ‌ষ্টিত

শোক দিবস উপল‌ক্ষ্যে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা অনূ‌ষ্টিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ই আগস্ট বৃহস্পতিবার…

ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিকও হিন্দু

ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিকও হিন্দু

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য…

বাহুবলে হামিদিয়া হলিচাইল্ড একাডেমিতে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন

বাহুবলে হামিদিয়া হলিচাইল্ড একাডেমিতে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন

সারা দেশের ন্যায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হামিদ নগরে অবস্থিত,হামিদিয়া হলি…

নয়ন বন্ডের বাসায় চুরি!

নয়ন বন্ডের বাসায় চুরি!

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’…

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি, নিহত ৮

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি, নিহত ৮

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে…

ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ফের গণধর্ষণ

ধর্ষণ মামলা তুলে না নেওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ফের গণধর্ষণ

ধর্ষণচেষ্টার মামলা তুলে না নেওয়ায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাবা-মাকে মারধর…