টাইম টিউন ডেস্ক
প্রকাশিত:
২৪ জানুয়ারী, ২০২০ ০৮:২০ পিএম


রাঙামাটিতে ৪০৩টি প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য


রাঙামাটিতে ৪০৩টি প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য

শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখনো শিক্ষক সংকটে ভুগছে। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলোতে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি মান বাড়ছে না লেখাপড়ার।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বাংলানিউজকে জানায়,  জেলায় মোট ৭০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি এসব বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যালয় ৮৬টি, ১৯টি কিন্ডারগার্টেন, কমিউনিটি বিদ্যালয় একটি, রেজিস্ট্রেশন বিদ্যালয় দুইটি, এনজিও ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ছয়টি, এবতেদায়ী (স্বতন্ত্র) আটটি এবং ১২টি উচ্চ মাদরাসা রয়েছে।

এরমধ্যে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ১৫১টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অতিরিক্তভাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তবে ২০১৯ সালে ১২৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে জেলা পরিষদ। তবে তাদের কর্মস্থল এখনো ঠিক করেনি কর্তৃপক্ষ। নিয়োগকৃত শিক্ষকদের তাদের কর্মস্থলে পাঠানো গেলে শিক্ষক সংকট কিছুটা লাঘব হবে।

জানা যায়, এ বছর স্কুলগুলোতে বালকের সংখ্যা হলো ৩৯ হাজার ৬৯৬ জন এবং বালিকার সংখ্যা ৪১ হাজার ৩১২ জন। তবে বালকের তুলনায় বালিকার সংখ্যা বেড়েছে। ২০২০ সালে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ণয় করা না গেলেও ২০১৯ সালে ঝড়ে পড়েছে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী। 

সংশ্লিষ্টরা জানায়, শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক আরও কিছু পদ খালি রয়েছে। এরমধ্যে উচ্চমান সহকারী পদে অনুমোদিত রয়েছে ১২টি পদ। কিন্তু কর্মরত রয়েছে আটটিতে। অফিস সহকারী পদে অনুমোদিত আছে ১২টি। কর্মরত রয়েছে সাতটিতে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) পদও খালি রয়েছে। অনুমোদন আছে ২০টিতে। কর্মরত রয়েছে ১৭টিতে। ১২ হাজার ৯৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১২ হাজার ৭৫২ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। ইবতেদায়ী মাদরাসায় ৫৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৩২ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। ছয় হাজার ১১৬ বর্গ কিলোমিটারের চার লাখ ৪৯ হাজার ৩৩৬ জন বসবাসকারী লোকের পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার হার মাত্র ৪৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম দিনে রাঙামাটির চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে ৬৭ হাজার ৭০৮টি বই বিরতণ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ২০১৭ সালে প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণি, ২০১৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি ও ২০২০ সালে তৃতীয় শ্রেণিতেও বই পেয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিশুরা। ২০২০ সালে ৩০ হাজার ৭৪৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিতরণ করা হয় ৬৭ হাজার ৭০৮টি বই।

প্রাক-প্রাথমিকে ১৭ হাজার ৯৪০টি, প্রথম শ্রেণিতে ১৯ হাজার ৩৫০টি বই বিতরণ করা হবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২২ হাজার ৬৪১টি বই বিতরণ করা হবে। তৃতীয় শ্রেণিতে সাত হাজার ৭৭৭টি মাতৃভাষার বই বিতরণ করা হয়েছে।

এর আগে, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে জেলায় মাতৃভাষায় মোট ৮৩ হাজার ৫০৯টি বই বিতরণ করা হয়। এবার বইয়ের সংখ্যা কমেছে। শিক্ষার্থী কম হওয়ার কারণে বইও কম বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল বাহাদুর ছেত্রী বলেন, মাতৃভাষায় বই দেওয়ায় সরকার ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিশুরা আগে মাতৃভাষার অক্ষরও চিনতো না। এখন তারা মাতৃভাষার অক্ষর চিনতে, পড়তে এবং লিখতে পারছে। এতে করে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা নিজেদের ভাষাকে রক্ষা করতে পারবে।

চাকমা ভাষার প্রশিক্ষক প্রসন্ন কুমার চাকমা বলেন, এখনও ভালো করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি। এরপরও এবার তৃতীয় শ্রেণির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভালো প্রশিক্ষণ না হওয়ায় অনেক শিক্ষক এখনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বইগুলো পড়াতে পারছে না। এজন্য মাতৃভাষার পাঠদান শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করাতে হবে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার মান বাড়াতে বাড়াতে হবে।

রাঙামাটি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা বলেন, পৌর এলাকায় ২৬টিসহ সদর উপজেলায় ৮৯টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকে চাকমা ৯৪৪, মারমা ২৬ ও ত্রিপুরা ভাষায় ১৫৩ টি বই পাওয়া যায়। প্রথম শ্রেণিতে চাকমা ১০৬২টি, মারমা ২৫টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৩৫টি বই। দ্বিতীয় শ্রেণিতে চাকমা ১১৩২টি, মারমা ৩২টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৩৪টি বই এবং তৃতীয় শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় ১১১৪টি, মারমা ৪৩ ও ত্রিপুরা ভাষায় ৫৪টি বই বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে। ১ জানুয়ারি শিশুদের হাতে দেওয়া হয়েছে এসব বই।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের এখনো প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক সংকট রয়েছে। সহকারী শিক্ষক রাঙামাটি জেলা পরিষদ নিয়োগ দিতে পারলেও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে। তবে সরকার আন্তরিক হলে শিক্ষক সংকট দূর হয়ে যাবে।

শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ বলেন, মাতৃভাষায় পাঠদানে আমরা শতভাগ সফল এ কথা বলা যাবে না। তবে আমরা ৬০ ভাগ সফল। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা তাদের মাতৃভাষায় লেখাপড়া করতে পারছে এটাই বড় পাওয়া। তবে ভালভাবে মাতৃভাষায় পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
বাংলাদেশ এর আরও খবর

আরো পড়ুন
চবি প্রশাসনকে নির্দিষ্ট চাঁদা দিয়েই রাস্তা ব্যবহার করছি- মোঃ হানিফ

চবি প্রশাসনকে নির্দিষ্ট চাঁদা দিয়েই রাস্তা ব্যবহার করছি- মোঃ হানিফ

ছোটবেলা থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে হাঁটতেছি। যেখানেই গরীব…

ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দেবো: প্রধানমন্ত্রী

ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দেবো: প্রধানমন্ত্রী

গ্রামে গ্রামে গৃহহীনদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী…

মেসি মেসি মেসি এবং মেসি!

মেসি মেসি মেসি এবং মেসি!

কিছুদিন থেকেই নানান বিতর্কে জর্জরিত বার্সেলোনা। শুরুতে ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক…

​​​​​​​​​​​ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

​​​​​​​​​​​ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত…

বাহুবলে ৫ জুয়াড়ি গ্রেফতার; জুয়াড়িদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা

বাহুবলে ৫ জুয়াড়ি গ্রেফতার; জুয়াড়িদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দ্বিগাম্বর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ জুয়াড়িকে…

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছেন মিজানুর রহমান আজহারী

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছেন মিজানুর রহমান আজহারী

আলোচিত ইসলামিক স্কলার ও তরুন প্রজন্মের আইডল মিজানুর রহমান আজহারী…

জয়সুরিয়া-গেইলদের কাতারে মুশফিকুর রহিম

জয়সুরিয়া-গেইলদের কাতারে মুশফিকুর রহিম

টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করে আগেই বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন…

তুমুল সংঘর্ষের মধ্যেই দিল্লিতে ট্রাম্প: নিহত ৭

তুমুল সংঘর্ষের মধ্যেই দিল্লিতে ট্রাম্প: নিহত ৭

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কেন্দ্র করে বিক্ষোভে চরম সহিংস…