সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১৫ জানুয়ারী, ২০২০ ১২:৩০ এএম


হাওরাঞ্চলের অসহায় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় তাহিরপুর হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবি


হাওরাঞ্চলের অসহায় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় তাহিরপুর হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাওরাঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ অসহায় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে এ হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি নতুন নান্দনিক ভবন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিপুল আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও ডাক্তার, নার্স, আসবাবসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় উন্নিতকরণের সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০ এপ্রিল ২০১৭ ইং তারিখে এ হাসপাতালে যোগদান করেন ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা স্যালাইন, এন্ট্রিবায়োটিক ইনজেকশনসহ বিনামূল্যে সরকারি প্রায় ৫০ ধরনের ঔষধ পাচ্ছেন। পুরাতন ভবনে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আই সি সি আই, বহি: বিভাগে পৃথক ভাবে পুরষ-মহিলা, ৫ থেকে ১২ বছরের শিশু ও দ্বিতীয় তলায় দুটি ওয়ার্ডে পুরুষ-মহিলা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বীর মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য রয়েছে বিশেষ বেডের ব্যবস্থা। নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রসূতি মায়েদের প্রাকৃতিক নিয়মে ডেলিভারি ও ২৪ ঘন্টা জরুরী বিভাগে জরুরী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ডা. ইকবাল হোসেন যোগদানের পর হাসপাতালের সার্বিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি যোগদানের পর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার সহযোগীতায় হাসপাতালের সামনে খালি জায়গায় গড়ে তুলেন বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ সমৃদ্ধ নান্দনিক বাগান। সময়-সুযোগে তিনি নিজেও বাগানের পরিচর্যা করে থাকেন। তবে তিনি হাসপাতালে না থেকে সপ্তাহের বেশিরভাগ সময়ই সিলেটে অবস্থান করেন ও হাসপাতালের সংস্কার কাজের মালামাল নিজ বসতবাড়িতে ব্যবহার করছেন তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে।

বর্তমানে এ হাসপাতালে ইউএইচএফপিওসহ ডা. রয়েছেন ৬জন। ইতোমধ্যে মধ্যে ৩৯তম বিসিএস এর ৬জন যোগদান করার পর এক মাসের মধ্যে ৩ জন বদলি হয়ে যান। এদিকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ১২ জনের মধ্যে ডেপুটেশনে রয়েছেন ৪জন। কিন্তু ফার্মাসিষ্ট, রেডিওলজিষ্ট ও আউটসোর্সিং টোকেন পদগুলো শূন্য রয়েছে। এদিকে ল্যাব ইকুইপমেন্ট থাকলেও ল্যাব টেকনেশিয়ান পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালের জন্য একটি নৌ-এ্যাম্বোল্যান্স থাকলেও কারিগরি ত্রুটির জন্য এটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। নৌ-এ্যাম্বোল্যান্স (দেখতে অনেকটা স্পিড বোটের মত) ইঞ্জিন ওঠানোর পর পেছনের অংশ পানিতে তলিয়ে যাবার ঘটনাও কয়েকবার ঘটেছে। বর্তমানে এটি পরিত্যাক্ত পড়ে আছে। ইতোমধ্যে সরকারি একটি এ্যাম্বোল্যান্স বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি এ্যাম্বোল্যান্সটি হস্থান্তর করা হবে। তবে হাসপাতালে দুদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় মানুষের অবাধ বিচরণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

 

সরেজমিনে গত ৬ জানুয়ারি সোমবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অনেকেই বিনামূল্যে সরকারি ঔষধ নিচ্ছেন। রিসিপশনের সামনে একটি মনিটরের স্ক্রিনে চলছে পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রচারণা।

আবদুর রব নামে এক প্রতিবন্ধি রোগী জানান, তিনি কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করে ডা. দেখানোর পর বিনামূল্যে সরকাররি ঔষধ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ২য় তলায় ১২ নং বেডে বীর মুক্তিযুদ্ধা মো. মশ্রব আলী, ৫ নং বেডে আমির হামজা, মহিলা ওয়ার্ডে ১৯ নং বেডে সফিকুন নাহারসহ অনেকেই টাইম টিউনকে জানান, ইনজেকশন, স্যালাইনসহ বিনামূল্যে সরকারি বিভিন্ন ঔষধ পেয়েছেন তারা। নার্সরা রয়েছেন ও ডা. সময়মত ভিজিট করছেন। তবে এক্সরেসহ বেশ কিছু পরিক্ষা নিরীক্ষা এখানে করা হচ্ছে না বলে জানান তারা। অনিতা বর্মন নামে এক মহিলা ডেলিভারি রোগীর স্বজন জানান, সকালে রোগী নিয়ে এসেছিলাম হাসপাতালে। নরমাল ডেলিভারিতে এক ছেলে হয়েছে। ডা. বলেছেন মা ও বাচ্চা দুজনেই সুস্থ্য রয়েছেন। তাই বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন সরকারি একটি এ্যাম্বোল্যান্স বরাদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অফিসিয়াল কাজে যোগদান করতে হয়। আমি এই এলাকার সন্তান। হাসপাতালের নিকটে আমার গ্রামের বাড়ি। একটি মহল হিংসাপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি টাইম টিউনকে বলেন, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীরের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও একচেঞ্জ স্যারকে বলা হয়েছে। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন সাব সেন্টারগুলোতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। এটা আমাদের প্রত্যাশার জায়গা। হাসপাতালে কর্মরত সবাই আগত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিতে চেষ্টা করছি।

হাওর পাড়ের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করতে ইকুইপমেন্ট, জনবল নিয়োগ, অবাধ যাতায়াত বন্ধে সীমানা প্রাচীর নির্মানসহ নবনির্মিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভবনে কার্যক্রম দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :
স্বাস্থ্য এর আরও খবর

আরো পড়ুন
ফ্রান্স সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী বাংলাদেশী  সরুফ ছদিওল

ফ্রান্স সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী বাংলাদেশী  সরুফ ছদিওল

ফ্রান্সে আগামী ১৫ মার্চ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আর এ নির্বাচনে…

পর্তুগাল আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংঘর্ষে আহত ৬ নিহত ১

পর্তুগাল আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংঘর্ষে আহত ৬ নিহত ১

পর্তুগাল গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাজনীতি পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিএনপির সভাপতি…

মা কোলে নিতেই নড়ে উঠলো মৃত বলে ফেলে রাখা নবজাতক!

মা কোলে নিতেই নড়ে উঠলো মৃত বলে ফেলে রাখা নবজাতক!

চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল সড়কের ‘উপশম নার্সিং হোম’-এ নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে…

বড়লেখায় একসাথে ৫ খুন

বড়লেখায় একসাথে ৫ খুন

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।…

তিন তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

তিন তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভবনের তিন তলা থেকে পড়ে রাস্তার উপর…

পর্তুগাল আওয়ামী বিএনপি দুই গ্রূপের সংঘর্ষ, আহত ৪

পর্তুগাল আওয়ামী বিএনপি দুই গ্রূপের সংঘর্ষ, আহত ৪

রাজনৈতিক দলীয় শত্রুতার জেরে গতকাল পর্তুগাল স্থানীয় সময় রাত ৯টার…

বিজেপি নেতাকে কষে চড় হাঁকালেন নারী কর্মকর্তা

বিজেপি নেতাকে কষে চড় হাঁকালেন নারী কর্মকর্তা

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ছিল, তারপরও বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে মিছিল বের…

পেঁয়াজের দাম আরও কমেছে

পেঁয়াজের দাম আরও কমেছে

দীর্ঘদিন ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের…